চুয়াডাঙ্গায় মেয়র প্রার্থী আওসাফ আবিরের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মী ও একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত আল মোমিনকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় শহরজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি তাদের একসঙ্গে শরবত বিতরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুরের পর শহরের সমবায় নিউ মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় পথচারীদের মাঝে শরবত বিতরণের সময় আওসাফ আবিরের সঙ্গে আল মোমিনকে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল মোমিন (২৭) চুয়াডাঙ্গা শহরের ফেরিঘাট রোড এলাকার বাসিন্দা এবং অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, পূর্বে একটি প্রভাবশালী ছাত্রলীগ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আল মোমিনসহ কয়েকজন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তারা দাবি করেন, নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি ও আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চলত এবং ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। এই মোমিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি কোপানোর অভিযোগ আছে বলে জানান তারা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চাঁদা না দিলে মারধর, হুমকি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো নিয়মিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট গ্রুপটি আত্মগোপনে চলে যায় বলেও তারা জানান। তবে সম্প্রতি আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা গেলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একজন প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মত দেন তারা।
এ বিষয়ে মেয়র প্রার্থী আওসাফ আবিরের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নির্বাচনী প্রচারণা ছিল না। আমি শরবত বিতরণ করছিলাম, ওই সময় অনেকে হেল্প করার জন্য এগিয়ে আসে। আমি তো ওভাবে কাউকে চিনি না, তাদের মধ্যে হয়ত একজন ওই ব্যক্তি। আমি পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক