চুয়াডাঙ্গা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ও সংবেদনশীল সড়ক হিসেবে পরিচিত ‘সদর হাসপাতাল সড়ক’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনে আবারও কার্যকর হয়েছে ‘একমুখী’ (ওয়ান-ওয়ে) যান চলাচল ব্যবস্থা। নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সময়োপযোগী ও আপসহীন হস্তক্ষেপে বদলে যেতে শুরু করেছে এই রুটের চিরচেনা চিত্র।
হাসপাতাল সড়কের যানজট নিরসনে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের হাত ধরে। শুরুতে এটি দারুণ সুফল দিলেও সময়ের ব্যবধানে এবং তদারকির অভাবে একসময় সেই মহৎ উদ্যোগটি স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হলেও বাস্তবে তার সুফল মেলেনি। এমনকি সরকারি যানবাহনগুলোও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানত না।
তবে বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান দায়িত্ব নেওয়ার পর জনদুর্ভোগ লাঘবকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার নির্দেশনায় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এই সড়কটি কঠোরভাবে একমুখী রাখা হচ্ছে। নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি নিয়ম লঙ্ঘন করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাড়িও ফেরত পাঠানোর নজির স্থাপন করেছে ট্রাফিক বিভাগ। প্রশাসনের এমন পেশাদার ও নিরপেক্ষ অবস্থান স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ইতিবাচক প্রভাবই বেশি। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও রোগীরা। মেহেরপুর থেকে আসা রোগী রিপন জানান, ‘এর আগেও এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি, তখন তীব্র জ্যামে পড়তে হতো। কিন্তু আজ ট্রাফিক পুলিশের কড়া তদারকি দেখলাম, কোনো জ্যাম ছাড়াই হাসপাতালে পৌঁছাতে পেরেছি।’
অটোচালক মিলন বলেন, ‘রাস্তা একমুখী হওয়ায় আমরা আর জ্যামে আটকে থাকছি না। এখন খুব সহজে এবং দ্রুত ইমারজেন্সি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াত করা যাচ্ছে।’ তবে এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় মুদি দোকানদার মঈনুল বলেন, ‘যানজট কমায় মানুষের ভোগান্তি তো কমেছেই, কিন্তু জনসমাগম কিছুটা কমে যাওয়ায় আমাদের বেচা-বিক্রি আগের চেয়ে কম। আমরা কিছুটা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।’
অন্যদিকে, ওষুধের দোকানদার পারভেজ এই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘হাসপাতাল রোড একমুখী হওয়ায় জ্যাম নেই, ভোগান্তিও নেই। আমরাও স্বস্তিতে বেচাকেনা করতে পারছি।’ জেলার সচেতন মহলের মতে, নিয়ম কার্যকর করা সহজ হলেও তা ধরে রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তবে নবাগত পুলিশ সুপারের বর্তমান কর্মতৎপরতা ও নিয়মের প্রতি আপসহীন মনোভাব যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তবে চুয়াডাঙ্গাবাসী স্থায়ীভাবে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা শহরের সম্মানিত নাগরিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সদর হাসপাতাল সড়ক একমুখী করা হয়েছে। এখন ট্রাফিক জ্যাম নেই। নাগরিকবৃন্দ স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক