চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মনিরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহের খবরে ভোর থেকেই মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে তেল দেওয়া শুরু হবে- এমন ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ার পর সরোজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত চালক এসে ফিলিং স্টেশনের সামনে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমিত মজুতের কারণে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পেট্রোল ও অকটেন ৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ কিছু হলেও তেল পেতে পারেন, সে জন্যই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে ২০০ টাকার বেশি তেল পাননি।
ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদেরঅভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল মিলছে না। কেউ কেউ ঢাকাসহ দূরপাল্লার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তেল নিতে চাইলেও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না।
এক ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও প্রয়োজনমতো তেল পাইনি। তার ওপর কাগজপত্র ঠিক না থাকলে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছি। এদিকে, ঘটনাস্থলে ট্রাফিক সার্জেন্টসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তারা মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট যাচাই করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চালক।
এদিকে, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। এক কৃষক বলেন, ‘আমি দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দিয়েছে। আমার ১৪-১৫ বিঘা জমিতে সেচ দিতে হবে। তেল না পেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকদের জন্য আলাদা করে ডিজেলের ব্যবস্থা করা উচিত।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষক, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি রোগী পরিবহন এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে কৃষকদের জন্য আলাদা ডিজেল সরবরাহ এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য পৃথক লাইনের দাবি জানিয়েছেন। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে জ্বালানির মজুত সীমিত। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে বেশি সংখ্যক গ্রাহক কিছু হলেও জ্বালানি পান।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ