রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গার ছত্রাপাড়ায় ঈদের দিন দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

যুবক নিহত ও বৃদ্ধর মৃত্যু, একজন গ্রেপ্তার
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৩-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গার ছত্রাপাড়ায় ঈদের দিন দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়ায় ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় সংঘর্ষের খবর শুনে নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) নামে এক বৃদ্ধ স্ট্রোকে মারা গেছেন। তবে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, জমি-জমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করেছে। 

গত শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ছত্রাপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।

নিহত শিমুল হোসেন কাজি ছত্রাপাড়া গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। অপর দিকে, মারা যাওয়া নাজিম উদ্দিন কাজি একই গ্রামের মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে এবং নিহত শিমুলের দাদা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিই। এই স্ট্যাটাসে ক্ষুব্ধ হয়ে ছত্রাপাড়া গ্রামের জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাকে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দেয়। পরবর্তীতে ঈদের দিন দুপুরে গ্রামের ঈদগাহে বসেছিলাম। এসময় স্থানীয় জামায়াত নেতা সালাম ডাক্তারের ইন্ধনে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাতুড়ি নিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করে। আমি দৌঁড়ে বাড়িতে এলে তারা আমার বাড়ির গেট ভাঙচুর করে। এসময় আমার চাচা বাধা দিতে আসলে তারা আমার চাচাকেও মারধর করে। পরে আমার গোষ্ঠীর লোকজন এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় নাজিম উদ্দিন কাজি নামের এক বৃদ্ধ স্ট্রোক করে মারা যান। এবং পরে গুরুতর আহত শিমুল নামের আরেকজনও মারা যান।’

তবে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, ছত্রাপাড়া গ্রামে প্রায় ৮০ বিঘার মতো খাস জমি আছে। এই জমি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের দখলে রয়েছে। এটা নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধও চলে আসছে। ঈদের দিন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ছত্রাপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে এলাকার জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাওয়াত দেন। এখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষের হামলায় দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের খবরে পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান নাজিম উদ্দিন কাজি নামের এক বৃদ্ধ। সংঘর্ষে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শিমুল কাজিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, ঘটনার দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এ ঘটনায় নিহত শিমুল কাজির চাচা বাদী হয়ে গত ২২ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় এখলাস নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত