সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ঋতু পরিবর্তনে সদর হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরের রোগী

এক সপ্তাহে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৫ হাজার রোগী
  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৩-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ঋতু পরিবর্তনে সদর হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরের রোগী

চুয়াডাঙ্গায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে জনস্বাস্থ্যে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে তাপমাত্রা বাড়লেও রাতের দিকে এখনও শীতের অনুভূতি থাকায় ঠান্ডা-গরমের প্রভাবে জ্বর, সর্দি-কাঁশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে একসপ্তাহে মোট নারী চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯০৬ জন, পুরুষ ১৫১৮ জন এবং শিশু ১৫২৮ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি-কাঁশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফলে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।


হাসপাতালের তথ্য মতে, শিশু ওয়ার্ডে ১৩ শয্যার বিপরীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৯ জন, ২৬ তারিখ ২০ জন, ২৭ তারিখ ২৬ জন, ২৮ তারিখ ২২ জন, এবং মার্চ মাসের ১ তারিখে নতুন রোগী ভর্তি হয় ১৯ জন, ২ তারিখ ৩০ জন, ৩ তারিখ ১৫ জন, ৪ তারিখ ৩৬ জন, এবং ৫ তারিখ দুপুর ১টা অবধি নতুন রোগী ভর্তি  হয়েছেন ১৬ জন । ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৩১ জন, ২৬ তারিখ ৩০ জন, ২৭ তারিখ ২৬ জন, ২৮ তারিখ ৩৫জন, এবং মার্চ মাসের ১ তারিখে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন, ২ তারিখ ২৮ জন, ৩ তারিখ ৩৩ জন, ৪ তারিখ ৩৭ জন, এবং ৫ তারিখ দুপুর ১টা অবধি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৮ জন।


মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ১১ শয্যার বিপরীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন, ২৬ তারিখ ৩৫জন, ২৭ তারিখ ৪৯ জন, ২৮ তারিখ ২৯ জন, এবং মার্চ মাসের ১ তারিখে নতুন রোগী ভর্তি ৩০ জন, ২ তারিখ ৩৪ জন, ৩ তারিখ ৩৪ জন, ৪ তারিখ ৫৪ জন, ৫ তারিখ দুপুর ১টা অবধি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২২ শয্যার বিপরীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৮ জন, ২৬ তারিখ ৪৩ জন, ২৭ তারিখ ৩১জন, ২৮ তারিখ ৩৬ জন, এবং মার্চ মাসের ১ তারিখে নতুন রোগী ভর্তি ৩৬ জন, ২ তারিখ ভর্তি ৩১ জন, ৩ তারিখ ভর্তি ২১ জন, ৪ তারিখ ৩১ জন, এবং ৫ তারিখ দুপুর ১টা অবধি নতুন রোগী ভর্তি  হয়েছেন ১৬ জন।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী দেখছি আমরা। অধিকাংশই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরের। এবং শীতের প্রায় শেষ তবুও ডায়রিয়ার প্রোকপ কমেনি, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।’ তিনি আরও  বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়া শীত থেকে গরম, গরম থেকে শীত অনুভূতি হচ্ছে ফলে শিশুদের ঘাম গায়ে বসে ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। অবিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। ঠান্ডা জ্বর কিংবা ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষনাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’


হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১ বছর বয়সী কন্যাশিশুর বাবা মোফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়াতে আক্রন্ত। আমরা হাসাপাতালে প্রায় ৩ দিন ভর্তি আছি, এখন মেয়েটা অনেকটা সুস্থ। এই আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলেই হয়ত এমন হয়েছে।’ শিশু বিভাগে ভর্তি ৩ বছর বয়সী শিশু রিজভীর মা রিক্তা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। নিঃশ্বাস নিতেও মাঝে মধ্যে কষ্ট হচ্ছে ওর, জ্বর আসছ আবার যাচ্ছে। ডাক্তার দেখিয়েছি, ঔষধ ও চলছে এখন বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে সদর হাসপাতালে শিশু এবং বয়স্ক রোগির সংখ্যা বেড়েছে। সাধারণত জ্বর-সর্দি কাঁশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করছি এবং ঔষধ  সরবরাহ ও পর্যাপ্ত রয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে তেল নিয়ে বিবাদ, বৈষম্যবিরোধী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার জেরে