আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত জৈব সার ‘সোনার দানা’ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা অর্জন করেছে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ফসলের অধিক ফলনের কারণে দিন দিন এ সারের প্রতি ঝুঁকছেন এলাকার কৃষকেরা। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনও বাড়িয়েছে। জানা যায়, ২০১২ সালে দর্শনা কেরু চিনিকলে প্রেসমাড ব্যবহার করে ‘সোনার দানা’ নামে জৈব সার উৎপাদন শুরু হয়। শুরু থেকেই এ সার জমির গুণাগুণ উন্নত করা এবং ধান, আখ, পেঁপে, বিভিন্ন প্রজাতির সবজি, পান ও ফুল চাষে ইতিবাচক ফলাফল দেওয়ায় কৃষকদের আস্থা অর্জন করে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ১৯ দশমিক ৯৯৫ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদন করে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা লাভ করেছে কেরু চিনিকল। একই অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন। এর আগের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদন করা হয় এবং ১ হাজার ১৮৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন বিক্রি করা হয়।
কেরু চিনিকলের উৎপাদন ও প্ল্যান্ট ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ১৩৬ মেট্রিক টন হারে জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা আরও বাড়লে উৎপাদনও বাড়ানো হবে। কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর জৈব সার ব্যবহারে ধান, আঁখ, পেঁপে, বিভিন্ন প্রজাতির সবজি, পান ও ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধি হচ্ছে। জৈব সার সোনার দানা ধীরে ধীরে এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের মধ্যে চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী জৈব সারের উৎপাদনও বাড়াবো।
রাব্বিক হাসান আরও বলেন, কেরুর জৈব সার শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার বেকার সমস্যা অনেকাংশে কমবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষকদের মতে, ‘সোনার দানা’ ব্যবহারে জমির গুণগত মান উন্নত হচ্ছে এবং উৎপাদনও বাড়ছে। ফলে দর্শনার গণ্ডি পেরিয়ে এ জৈব সার এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সমাদৃত হয়ে উঠছে।
দর্শনা অফিস