চুয়াডাঙ্গার সদরের সরোজগঞ্জ বাজারে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে একটি টিয়া পাখি ও দেশীয় প্রজাতির একটি খরগোশ উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করেছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতা এলাহির নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বন বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা শাহাজান রিপন হোসেন ও অফিস সহকারী পি এম রানা আহম্মেদ। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সরোজগঞ্জ বাজারের মালিক মতিয়ার রহমান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের আওতায় টিয়া পাখি ও দেশীয় প্রজাতির খরগোশসহ যেকোনো বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আটক, ক্রয়-বিক্রয় বা প্রদর্শন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উদ্ধারকৃত প্রাণিগুলোকে তাদের উপযোগী পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতাএলাহি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী আমাদের জাতীয় সম্পদ। এগুলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী আটক বা বেচাকেনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সরোজগঞ্জ বাজারে কিছু কবুতর ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন ব্যক্তি গোপনে বন্যপ্রাণী ধরা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে-বন্যপ্রাণী ধরা এবং বিক্রি করা- দুটিই সমান অপরাধ।
স্থানীয় সচেতন মহল বন বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা বন্ধ হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ