চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশকে ঘিরে নানা অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ৩২তম বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে যশোরের ঝিকরগাছায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে কৃষক ইমদাদুল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মাশরুম চাষের জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা কৃষকদের না দিয়ে ‘মেসার্স বাংলা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেক তুলে নেওয়া হয়। তদন্তে এ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘নিরাপদ ফসল উৎপাদন’ প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাপ্তাহিক অধিবেশনে অনুপস্থিতি এবং রাজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত কিছু প্রদর্শনীর বাস্তব অস্তিত্ব না থাকার বিষয়ও তদন্তে উঠে আসে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ঝিনাইদহ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে বদলি হন। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজেকে ‘জামায়াত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় পদায়ন নেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন- এমন অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে যশোর বিমানবন্দর এলাকায় তার নামে কোটি টাকার সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তবে মাসুদ পলাশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকে সারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, ডিলারদের সিন্ডিকেট ও বাড়তি দামের বিষয়ে কৃষি অফিস কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এতে সাধারণ কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশ বলেন, একটি মহল তাকে হেয় করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনো সরকারি প্রকল্পের অর্থ তিনি আত্মসাৎ করেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক