মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সীমানা জটিলতায় স্থবির হাউলী ইউনিয়ন, এক যুগেও হয়নি নির্বাচন

বারবার রিটে বন্ধ ভোট, ক্ষোভে ফুঁসছে ইউনিয়নবাসী
  • আপলোড তারিখঃ ০২-০৩-২০২৬ ইং
সীমানা জটিলতায় স্থবির হাউলী ইউনিয়ন, এক যুগেও হয়নি নির্বাচন

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় এক যুগ ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা এবং একের পর এক রিট আবেদনের কারণে ২০১১ সালের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি- ‘চেয়ারম্যান-মেম্বার যেই হোক, আমরা ভোট দিতে চাই।’


দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পদটি শূন্য হলে ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট উপ-নির্বাচনে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী শাহ মিণ্টু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৬ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও ইউনিয়ন বিভক্তি ইস্যুতে আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। প্রথম রিট খারিজ হলেও পরবর্তীতে কাদিপুর গ্রামের নিয়ামত আলীর ছেলে মজিবর রহমান একই বিষয়ে আরেকটি রিট দায়ের করেন। প্রার্থী মনোনয়নসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ভোটের মাত্র তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত করে।


সে সময় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন এবং জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রার্থীরা আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খোকন অভিযোগ করেন, তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ মিণ্টু পদ ধরে রাখতে নিজেদের লোক দিয়ে রিট করান। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে মিণ্টুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়েছে। সাধারণ নিয়মে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের কথা থাকলেও হাউলীতে তা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের আগেই কয়েকজন ইউপি সদস্য নতুন করে হাইকোর্টে রিট করেন। অভিযোগ রয়েছে, মজিবর রহমানকে দিয়ে এ রিট করানো হয়। হাইকোর্টের মামলা নম্বর ৩৪৪৩/২০২২-এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশন ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) দেন। ফলে প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায়।


সর্বশেষ রিটকারী মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন বিভক্তির জন্য রিট করেছিলাম। এখন ইউনিয়নে নির্বাচন চাই।’ এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী সীমানা জটিলতাকে সামনে এনে বারবার রিট করে নির্বাচন ও প্রশাসক নিয়োগ ঠেকাচ্ছে। এতে ইউনিয়নের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন করে ছয় মাসের স্থগিতাদেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিরা দায়িত্বে থাকায় সাধারণ মানুষের মূল্যায়ন কমে গেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।


হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালের রিটের পর থেকে এখনো নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ রিট বিষয়ে তিনি অবগত নন। হাউলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির উবায়দুল হক বলেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর পরপর মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত। যারা নতুন করে রিট করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’ হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘সীমানা জটিলতা ও মামলার অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নির্বাচন ঠেকাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, ‘হাউলী ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের ছয় মাসের স্থগিতাদেশের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আইনগত জটিলতা কেটে গেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ প্রায় এক যুগ ধরে নির্বাচনবঞ্চিত হাউলী ইউনিয়নবাসী এখন অপেক্ষায়- কবে কাটবে আইনি জট, কবে মিলবে তাদের ভোটাধিকার।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনায় ঈদ কেনাকাটায় প্রাণচাঞ্চল্য, জমজমাট মার্কেটগুলো