আলমডাঙ্গায় নিখোঁজের তিন দিন পর সুজন আলী (৩২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে নিজ বাড়ির একটি ঘর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুজন আলী আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। শ্রমিকের কাজ করলেও পরিবারের খরচ বহন না করা নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী লিমা খাতুনকে মারধর করে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল সোমবার সকালে সুজনের বড় ছেলে লিমন বাবার খোঁজ নিতে বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকায় টিনের চালের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের বড় বোন হাসি খাতুন অভিযোগ করেন, মাদকাসক্তির কারণে সুজনের সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত এবং তিনি স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি বলেন, ‘ঘরের বাইরে তালা লাগানো ছিল। আত্মহত্যা হলে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ থাকার কথা। তাই আমরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি।’
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রহস্য রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আলমডাঙ্গা অফিস