মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

সবজিতেও স্বস্তি নেই, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

রমজান মানেই ইফতার ও সেহরিতে নানা আয়োজন। কিন্তু পবিত্র এ মাসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষ করে ইফতারে ব্যবহৃত খেজুর, লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। গতকাল সোমবার শহরের বড় বাজারের নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খেজুরের দাম প্রায় দ্বিগুণ, লেবু ও কাঁচা মরিচের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।


চাকরিজীবী শাহীন আলী বলেন, ‘রমজান মাস অনুযায়ী জিনিসপত্রের যে দাম থাকার কথা, তা নেই। কলা, শসা, বেগুন, লেবু- সবকিছুর দাম বেড়েছে। আমাদের বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু রোজায় দ্রব্যমূল্য ঠিকই বেড়ে যায়।’ অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করেন, ‘পকেটে টাকা থাকলেও বাজারের ব্যাগ ভরে কেনাকাটা করা এখন কঠিন হয়ে গেছে।’ নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তারা।


তবে মাছ ও মাংসের বাজার তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক রয়েছে। মাছ বিক্রেতা আলম বলেন, ‘রোজায় মাছের বাজারে মন্দা চলছে। প্রতিটি মাছের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। খরিদদারও কম।’ মুরগি বিক্রেতা নাজিম জানান, ‘রোজার আগে শীতের কারণে দাম বেশি ছিল। এখন মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণেই আছে।’ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ইফতারের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি বড় কারণ।


খেজুর বিক্রেতা মোহাম্মদ বলেন, ‘যে খেজুর আগে ২০০ টাকা ছিল, এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজায় অনেকেই মাল মজুদ করে রাখে, এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।’ তরমুজ বিক্রেতা ফরহাদ জানান, ‘চুয়াডাঙ্গায় তরমুজ নেই। বরিশালেও নেই, পতেঙ্গা থেকে আনতে হচ্ছে। ১৫শ তরমুজ আনতে ৪০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। আমরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। রোজায় চাহিদা বেশি থাকায় নিলামে দাম বেড়ে যাচ্ছে।’


সবজি বিক্রেতা আহাদ আলী বলেন, ‘রোজার আগে বেগুন ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২০ টাকা। লেবু ৪০ টাকা হালি থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। ঝাল ২০০ টাকার ওপরেও বিক্রি হয়েছে। রোজায় খিরা, লেবু, ধনেপাতার চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। আমদানিও কম।’


ফল বিক্রেতা সিহাব বলেন, ‘আপেল ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা হয়েছে, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। প্রায় সব ফলেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।’ ক্রেতা রাশেদা আক্তার বলেন, ‘বাজারে সব জিনিসে আগুনঝরা দাম। এভাবে চললে মধ্যবিত্তদের টিকে থাকাই কঠিন হবে।’ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি, জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করেন, দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে হলে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন