আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। একই সাথে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান রোধ, যানজট নিরসন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলায় মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গায় ইদানিং মাদকের আনাগোনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি আমরা ‘এস্কাফ’ নামক মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করেছি। মাদকের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আড্ডা ও মাদক সেবন বন্ধে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও কলেজ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেবেন না। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে জাল ভোটারদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর; কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেন। জেলা প্রশাসক চুয়াডাঙ্গার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওবায়দুর রহমান সাহেল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক