চুয়াডাঙ্গা পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় সভা ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় উম্বাত মোড়ে কুশল বিনিময় সভা ও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নীলার মোড়ে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া একটি রাষ্ট্র কখনোই গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ হতে পারে না। আজকের বাংলাদেশে নারীরা শুধু ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ নেই- তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, প্রশাসনসহ সর্বত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত বছরগুলোতে নারীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না, ভোটের অধিকার ছিল না। দিনের ভোট রাতে হয়ে যায়, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পেতো। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় নারীরা। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র- যেখানে একজন নারী নিরাপদে চলাফেরা করবে, ন্যায়বিচার পাবে এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি সবসময় নারীবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছিলেন। আজকে তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও সংসদীয় আসনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়- এই নির্বাচন হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। যদি জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তাহলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। আমি আপনাদের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, একটি অঙ্গীকার দিতে চাই- আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও দখলদারিত্বমুক্ত একটি মানবিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।’
জেলা বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে অবহেলা হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে হবে। তরুণদের চাকরি দিতে হবে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাজ একা কোনো নেতা করতে পারে না- এ জন্য প্রয়োজন জনগণের ঐক্য ও সচেতন অংশগ্রহণ।’ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপনারা যদি ধানের শীষের পক্ষে রায় দেন, তাহলে চুয়াডাঙ্গা হবে শান্তি, উন্নয়ন ও ন্যায়ের প্রতীক। আসুন, ভয়কে জয় করে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনি।’
নারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সিনিয়র সদস্য কর্নেল কামরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল হক মিল্টু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হ্যাজি, সরকারি কলেজে ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা। ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লালের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সাদিদ, জেলা শ্রমিক দলের নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ প্রমুখ।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন জাকির। উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, চুয়াডাঙ্গায় জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মহলদার ইমরান রিণ্টু। পৌর যুবদলের সদস্যসচিব আজিজুল হকের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন পারভীন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছোটন, ইকবাল, আব্দুল ওয়াহাব, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হোসেন, কুদ্দুস আলী প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক