দৈনিক সময়য়ের সমীকরণ-এর প্রতিনিধি সভা ও নির্বাচনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটায় পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে এ সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সময়য়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পত্রিকার দর্শনা অফিস প্রধান আওয়াল হোসেন।
কর্মশালায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত নীতি, দায়িত্ব ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইন-বিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী নির্বাচনী বিধিমালা, ভোট গ্রহণের দিন সাংবাদিকদের করণীয় ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বিশ্লেষণমূলকভাবে তুলে ধরেন। এসময় তিনি উপস্থিত প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘এবারের নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের থেকে ব্যাতিক্রম। প্রথম ব্যাতিক্রম হলো ১৪, ১৮, এবং ২৪ শে আমরা যে নির্বাচন দেখেছি, সেখানে দিনের ভোট রাতে হয়েছে কিংবা ভোট আগেই হয়ে গেছে। যে নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না, কোনো আগ্রহও ছিলে না। তবে এবারের নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ ব্যাপক।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে যেমন সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে। তেমনিভাবে এবার দুটি ব্যালটে নির্বাচন হবে। ২৪ শে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ যে পরিবর্তনের স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আমাদের আগামী রাষ্ট্র কেমন হবে, সরকার কেমন হবে, কেমন বাংলাদেশ আমরা চাই, এই বিষয়গুলো এখন প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। দুটি ব্যালটের মধ্যে একটি সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ব্যালট, আরেকটি গণভোটের। যেটি ‘হ্যাঁ’ এবং এবং ‘না’ এর মধ্যে দিতে হবে।
নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু ঘটনা তুলে ধরা নয়, এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করাও। নির্বাচনের দিন আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। হাই প্রোফাইল সংবাদকর্মীদের প্রটোকল দেওয়া কিংবা চা-নাশতায় সময় নষ্ট করলে ভোট কাভারেজের মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একটি দিন আমাদের অত্যন্ত পরিশ্রমী, সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক সোহেল রাসা ডালিম, প্রধান কম্পিউটার অপারেটর বিএ জীবন, অনলাইন ইনচার্জ সালেকিন মিয়া সাগর, আলমডাঙ্গা অফিস প্রধান খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, জীবননগর সহকারী অফিস প্রধান মিঠুন মাহমুদ, দামুড়হুদা প্রতিবেদক মোজাম্মেল শিশির, আলমডাঙ্গা প্রতিবেদক শেখ শফিউজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক (আলমডাঙ্গা) খাইরুল ইসলাম, ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক নাহিদ হাসান, হাটবোয়ালিয়া প্রতিবেদক সেলিম রেজা, নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল সামি, নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা) ইমতিয়াজ রয়েল, উথলী প্রতিবেদক রাসেল হোসেন মুন্না, হিজলগাড়ি প্রতিবেদক আরিফ হাসান, তিতুদহ প্রতিবেদক আকিমুল ইসলাম, হাসাদাহ প্রতিবেদক মনিরুজ্জামান রিপন, মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রতিবেদক এস এ খান শিল্টু, মুজিবনগর প্রতিবেদক সোহাগ মন্ডল, বারাদী প্রতিবেদক এসআই বাবু, গাংনী প্রতিবেদক মাহাবুল ইসলাম, হরিণাকুণ্ডু প্রতিবেদক সোহরাব আলী, মহেশপুর প্রতিবেদক আব্দুর রহিম, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাদ্দুর রহমান পলক, সার্কুলেশন ম্যানেজার মো. পারভেজ, সহকারী ভিডিও এডিটর আতিকুর রহমান, অফিস সহকারী নাজমুল শান্ত প্রমুখ।
কর্মশালা শেষে পত্রিকায় কর্মরত সকল সাংবাদিককে নতুন পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন সকল প্রতিনিধিকে পরিচয়পত্র গলাই পরিয়ে দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক