আসন্ন ২০২৬ সালের গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা। ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’ জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে এই সংলাপে একই মঞ্চে দাঁড়াচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে প্রার্থীদের এভাবে এক মঞ্চে আনার উদ্যোগটি জেলাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজি। প্রার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ইশতেহার জনগণের সামনে পেশ করবেন এবং সাধারণ ভোটারদের সরাসরি করা তীক্ষ্ম প্রশ্নের জবাব দেবেন।
আয়োজক সংগঠন ‘সুজন’ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল দর্শন। গত কয়েকদিনে শহরজুড়ে ব্যাপক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের এই সংলাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সুজনের জেলা সভাপতি প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভোটারদের সচেতনতা। আমরা চাই ভোটাররা যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে না গিয়ে জেনে-বুঝে তাদের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন। আজকের এই সংলাপ প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি স্বচ্ছ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।’
সুজনের ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী জানান, প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবেন, তা শোনার জন্য সাধারণ মানুষ মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে তিন ভিন্ন মতাদর্শের প্রার্থীকে একই মঞ্চে দেখার বিষয়টি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে সুধী সমাজ মনে করছেন।
এদিকে, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মুক্ত মঞ্চ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এই সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা সহজ হবে, যা আগামী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে। সচেতন মহলের মতে, নাগরিক চিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
নিজস্ব প্রতিবেদক