রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গার যুগিরহুদায় নারী কর্মীদের ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত ১৩
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০১-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গার যুগিরহুদায় নারী কর্মীদের ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ওই গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।


জামায়েতের অভিযোগ, রোববার দুপুরে জামায়েতের কয়েকজন নারী কর্মী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছিলেন। এসময় বিএনপির সমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। একপর্যায়ে নারীদের ওপর হামলাও চালানো হয়। 
বিএনপির দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এমনকি তারা কুরআন শরীফ ছুঁইয়ে শপথ করান। বিষয়টি জানতে পেরে ওই নারীদের কাছে সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা জামায়াতের পুরুষ কর্মীদের ডেকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। বহিরাগত লোকজন এসে লাঠিসোঠা, ইটপাটকেল নিয়ে দফায় দফায় হামলা চালায়।


বিএনপির আহত কর্মী আরাফাত আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে বাইরে থেকে অনেক মহিলা এসেছিলো কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে। এবং এসে তারা নগদ টাকা দিচ্ছিলো দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য। আবার বিকাশ নম্বরও নিচ্ছিলো বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য। এবং কুরআন শরীফ ছুয়ে কসমও কাটাচ্ছিলো ভোট দেওয়ার জন্য। তখন গ্রাসবাসী ও আমরা যারা বিএনপির সমর্থক আছি, আমরা তাদের এমন করতে নিষেধ করায় আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে জামায়াতের কর্মীরা লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি এই ঘটনায় জামায়াতের নেতা রাসেল পারভেজকে দায়ী করছি। হামলাকারীরা কুড়াল, চাইনিজ কুড়ুলসহ অনেক অস্ত্র নিয়ে এসেছিলো। আমরা পুলিশের থেকেও সাহায্য পাইনি। ঘটনাস্থলে কমলাপুর ফাঁড়ির পুলিশ ছিল, কিন্তু তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে।’


আহত বিএনপিকর্মী মানিক মিয়া বলেন, ‘আমার একটা রাইস মিল আছে, আমি সেখানে ধান ভাঙ্গাচ্ছিলাম। আমার মিলের সামনে দেখি জামায়াতের লোকজন মোটরসাইকেল রেখেছে, ফলে আমার মিলে কেউ ঢুকতেও পারছিল না, বেরও হতে পারছিল না। আমি তখন তাদের বলি ভাই আপনাদের গাড়িগুলো একটু সরান, আমার খরিদদার বের হবে এবং ধান ঢুকবে। এই কথা বলাতে তারা আমাকে রড দিয়ে মেরে হাত ভেঙে দেই। এবং দা-এর উল্টো পিঠ দিয়ে আমার মাথায় কোপ মারে।’
আহত ছাত্রদল কর্মী ফয়সাল বিন রাব্বী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কয়েকশ মহিলা ভোট চাইতে আসে। তাদের ব্যাগে ছোট কুরআন শরীফ ও টাকা-পয়সা ছিল। তারা কুরআন শরীফ ছুয়ে শপথ করায় নিচ্ছিলো এবং এনআইডি কার্ডের নাম্বার নিচ্ছিলো। আমার ছোট আম্মু তখন তাদের এটা করতে নিষেধ করেন। তার কিছুক্ষণ পর দেখি রাস্তায় জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী দাঁড়ায়ে, তাদের হাতে সাদা ব্যাগ এবং ব্যাগের ভেতরে দা, কোদাল, লাঠিসহ অনেক অস্ত্র। হঠাৎ ওদের মধ্যে থেকে একজন নারায়ে তাকবির বলে চিল্লায়ে একটা ইট ছুড়ে মেরে দেই। ওই ইট গিয়ে লাগে আমার মাথায়, পিঠে লাঠির বাড়িও লাগে। প্রচুর রক্তও বের হয়।’


স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘কিছু মহিলা ভোট চাইতে এসে কুরআন ছুয়ে শপথ করাচ্ছে, টাকা দিচ্ছে। তখন আমি বলি আপা আপনারা এভাবে ভোট চাইয়েন না। ভোট চাওয়ার অধিকার সবার আছে, কিন্তু এভাবে চাওয়া ঠিক না। তারপর একপর্যায়ে ওদের বলার পর ওরা চলে যায়, কিন্তু ওরা কাকে যেন ফোন করেই যাচ্ছিলো। তারপর ওরা বলে, আমাদের আমির আসছে, তিনি এসে কথা বলবেন, তারপর আমরা চলে যাবো। তারপর ওদের যে লোকজন এসছে, তারা সাথে লাঠি, দা-সহ অনেক অস্ত্র নিয়ে আসে। একপর্যায়ে কথাবার্তা চলাকালীন একজন হঠাৎ নারায়ে তাকবির বলেই ইট মেরে দেয়, তারপর মারামারি শুরু হয়ে যায়।’


স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ মজিবুল হক বলেন, ‘জামায়াতের মহিলারা ছোট কুরআন শরীফ নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে শপথ করাচ্ছে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার জন্য এবং বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে টাকা দেওয়ার জন্য। কয়েকবাড়ি ঘোরার পর বিএনপির সমর্থকরা এই খবর পেলে তাদের কাজে বাধা দেয়। এবং এর ফলে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আমার ছেলে ও ছেলের বউ দুজনেই আহত হয়।’


আহত নেতা-কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার প্রথমদিন থেকেই জামায়াতের হিংস্র ও মারমুখি মনোভাব আমরা লক্ষ্য করেছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের তৃণমূল নেতা অবধি সতর্ক করা আছে যে ওরা এমন মারমুখি হিংস্র মনোভাবে আছে, আমরা যেন কোনোভাবেই কোনো ঝামেলায় না জড়ায়। তবুও আজকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেই গেল। আজকে যারা ভোট চাইতে গেছে, তারা আমাদের এলাকারই না, তারা মেহেরপুরের। তারা গিয়ে কুরআন ছুয়ে শপথ করাচ্ছে, টাকা দিচ্ছে, এমন পর্যায়ে এলাকার লোকজন এগুলোর বিরোধিতা করেন। তারপর ওই মহিলারা ফোন করার কয়েক মিনিটের ভেতর উপজেলার আমির দারুস সালামসহ মূল মূল কয়েকজন নেতারা লাঠি, রডসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়। এটা একটা পরিকল্পিত বিষয়। ওরা পরিকল্পিতভাবে এমন কোনো ঘটনা ঘটাতে চাচ্ছে, যার ফল নির্বাচনের ওপর পড়বে। আপনারা জানেন নির্বাচন বানচাল করার জন্য তারা নানা পায়তারা করছে। একজন তার পছন্দ মতো দল করতেই পারে। আপনারা এমন কোনো ঘটনা ঘটাবেন না  বা কর্মীদের দিয়ে এমন কোনো কাজ করাবেন না, যার ফলে সমাজের সম্প্রীতি নষ্ট হয়। আমি জামায়াতের কাছে ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থীর কাছে অনুরোধ করব- সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এবং সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন শেষ করার জন্য। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিবে। যে নির্বাচিত হবে আমরা তাকেই মেনে নেবো। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো হানাহানি গোলযোগ আমরা চাই না।’


তিনি আরও বলেন, ‘নারী-পুরুষসহ আমাদের ৯ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এবং তাদেরকে বাইরে থেকে এসে মেরে গিয়েছে। যিনি নির্বাচন করছেন, তাকে তো গ্রাম সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। একেক গ্রামের একেক অক্ষতা আছে। এবং আজ পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের নেতা-কর্মীরা আইনের ওপর ভরসা রেখে কোনো উশৃঙ্খলা করেনি। এবং আমি জামায়াতে ইসলামীকে বলব আপনারা যদি বারবার এমন করেন, তবে আমরা ধৈর্য্য ধরতে ধরতে ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলে তখন কী হবে তা আমরা জানি না। আমরা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাই না।’


অপর দিকে, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীদের বারবার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। বিএনপির হামলায় জামায়াতের নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘আজকে বিকেল ৫টায় জরুরি বিভাগে মোট ৯ জন রোগী আসেন। তারা প্রত্যেকে মারামারি সংক্রান্ত কারণে আসেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখি।’ আলমডাঙ্গার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিত স্বাভাবিক আছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত