আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন জীবননগর উপজেলা বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর, মিনাজপুর, আলীপুর, বাঁকা গ্রামসহ ১৩টি স্থানে নির্বাচনী পথসভা করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজেএমইএ’র সভাপতি এবং বিএনপি মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত এই পথসভা করেন তিনি।
পথসভায় বাবু খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাঁকায় আসা হয়নি। আজকে যে আমাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণ, সেটি বাঁকাবাসীর জন্য। আজকে আমরা শুরুই করেছি বাঁকা ইউনিয়ন দিয়ে। ইনশাআল্লাহ আরও ৪-৬টি পথসভায় আমরা যাব। মানুষের কথা শুনতে অথবা আমাদের কথা মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য। আপনারা জানেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন, এবার নির্বাচনটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনে দুটি ব্যালট থাকবে। একটি ব্যালট থাকবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-এর পক্ষে। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা করছি। আর একটি ব্যালট থাকবে প্রতীকের ব্যালট অথবা মার্কার ব্যালট। আমরা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা করছি। ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। ধানের শীষের পক্ষে আপনাদের সমর্থন আছে।’
বিএনপি মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আরও বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে দলে দলে মানুষ ভোট কেন্দ্র যাবেন এবং তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবেন। বাংলাদেশের মানুষের যে মৌলিক অধিকার, সেই অধিকার ফিরে পেয়ে সেই অধিকারের চর্চাটা করবেন।’
বাবু খান আরও বলেন, ‘আমরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা উন্নয়নের কথা বলি। আমরা অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলি। আমরা পারস্পরিক শান্তির কথা বলি। শৃঙ্খলার কথা বলি। আইন মেনে চলার কথা বলি। আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন, আমরা নাম বলতে চাই না, কেউ কেউ এই ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে এমন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যাতে করে মনে হবে ভোট কেন্দ্র একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র। ভোট কেন্দ্র কি যুদ্ধ ক্ষেত্র? না, ভোট কেন্দ্র হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশের একবারে মৌলিক জায়গা। যেখানে আপনি আপনার ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। সেই নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করবে নির্দিষ্ট সময়, সেই নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে আগামী ৫ বছর। ৫ বছর যদি আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটে, ৫ বছর পরে আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অন্য দলের পক্ষে আপনার মতামত দিতে পারবেন। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রে সৌন্দর্য্য।’
জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘আমরা কখনই বলি না দেশে একটি মাত্র দল থাকবে। একটি মাত্র দলকেই ভোট দেবেন। আমরা যেটা বলি, সেটা হচ্ছে- গণতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে ভোট কেন্দ্রে যাব। ভোট কেন্দ্র যেন উৎসবমুখর হয়। এখানে ভয়-ভীতি যেন কাজ না করে, আতঙ্ক যেন কাজ না করে। এখানে লাঠিসোঁটার কথা যেন বলা না হয়। এখানে যেন শহিদ হওয়ার কথা না বলা হয়। আমরা শহিদ হতে তখনই প্রস্তুত আছি, যখন আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ ভিন্ন দেশ আমাদের যদি আক্রমণ করে, তখন আমরা দল-মত-জাতি-ধর্ম-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য শহিদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাব।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক, সহসভাপতি খাদেমুল হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বুদো, জীবননগর উপজেলা পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি বিএনপির আবুল শিকদার, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যানের বড় ছেলে হান্নান বিশ্বাস, হালিম শিকদার প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক