আলমডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে নেওয়া একটি প্রকল্পে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে ৭১ মোড় পর্যন্ত এলাকায় ড্রেনের ঠিক মাঝখানে ৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। এমন অপরিকল্পিত নির্মাণকাজে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। ড্রেনের মাঝখানে খুঁটি থাকায় সেখানে পলিথিন, বোতল ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য আটকে যাবে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ৭১ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বৃষ্টির দিনে ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় চলে আসলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো কারণে বিদ্যুতের তার লিক হলে বা ইনসুলেশন নষ্ট হলে পুরো ড্রেনের পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ড্রেনের ভেতরে খুঁটি থাকায় ড্রেনটি তার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা হারাবে। খুঁটির চাপে ড্রেনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাস্তারও ক্ষতি করবে। ভবিষ্যতে যখন এই খুঁটিগুলো সরানো হবে, তখন আবার নতুন করে তৈরি করা ড্রেনটি ভাঙতে হবে। এতে জনগণের ট্যাক্সের টাকার দ্বিগুণ অপচয় হবে।
সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকব আহসানুল কবির বকুল বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগকে দ্রুত একটি যৌথ সার্ভে করতে হবে। ইগো বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাদ দিয়ে জনস্বার্থে অবিলম্বে খুঁটিগুলো স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই ড্রেনের ভেতর থেকে খুঁটি সরিয়ে রাস্তার অন্য পাশে স্থানান্তর করতে হবে।’
সাহিত্যিক পিণ্টু রহমান বলেন, ‘খুঁটি না সরিয়ে কেন ড্রেন ঢালাই করা হলো, এই গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা ঠিকাদারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’ খুঁটি সরানোর পর ড্রেনের যে অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। পথচারীদের দাবি, বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আগেই যেন কর্তৃপক্ষ এই অদ্ভুত ড্রেন সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা