মুসল্লিদের মাঝে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার বেলা তিনটায় জেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ কামাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইমামরা সমাজের নেতা। যে মসজিদে আপনারা ইমামতি করেন, সেই মসজিদ ও সমাজের নেতৃত্ব আপনাদের হাতেই। একজন নেতা হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। এবার ভোটাররা একই সঙ্গে দুইটি ব্যালট পাবেন- একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য, আরেকটি গণভোটের জন্য। গণভোটের মাধ্যমে সরকার জনগণের মতামত জানতে চায়, কারণ কিছু বিষয় সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইমাম সাহেবদের বয়ান চলাকালে কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি দোয়া বা ভোট চাওয়ার অনুরোধ করেন, তাহলে সরাসরি না বলবেন। নিজেরাও বয়ানের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবেন না। কারো জন্য ভোট চাওয়া যাবে না। আপনারা শুধু মানুষকে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বোঝাবেন।’ তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দিইনি। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ও হিসাবরক্ষক আব্দুল হাকিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইমামগণ খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনাদের কথা সমাজের মানুষ মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং গ্রহণ করে। আপনারা যদি সঠিকভাবে বোঝাতে সক্ষম হন, তবে অবশ্যই এই গণভোটের বিষয়টা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। আমরা এখন একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের দেশ বিগত দিনে সঠিকভাবে না চলায় ২৪-শের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন পর্যায়ে এসছি। আমরা এই রাষ্ট্রের সংস্কার চাই। যারা সংস্কার চান এবং যারা চান না এটা সম্পূর্ণ আপনাদের নিজেদের ব্যাপার। তবে আমরা কেন এই গণভোটকে মানুষের সামনে হাজির করেছি সেটা উপস্থাপন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সরকারের দ্বায়িত্ব, সামাজিক মানুষ হিসেবে আমাদের ও দায়িত্ব।’
এসময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে সহজ ভাষায় বোঝাবেন- বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে একমত হলে ‘না’ ভোট দেবেন, আর সংস্কারের পক্ষে থাকলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। সংক্ষেপে বললেই মানুষ বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবে।’ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বদরগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা রুহুল আমিন ও পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক