রেমিট্যান্স ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সভাপতি এবং বিশ্বের অনাবাসী প্রবাসীদের শীর্ষ সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিককে রাজকীয় গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যবসায়িক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের আয়োজনে গতকাল বুধবার রাত আটটায় চেম্বার ভবনে এই জমকালো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যবসায়িক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব সুমন পারভেজ।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক সিআইপি এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং আমরা বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের কথা বলি, সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো ব্যবসায়ী সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে ব্যবসায়ীরা হলো একটা বিশেষ পার্ট; তারা তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। আপনারা যারা ব্যবসা করেন, প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেন। যেকোনো ব্যবসা ছোট করে শুরু হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে কষ্ট, মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বড় হয়। আমি একদিনে সিআইপি নির্বাচিত হইনি; আপনাদের মতোই আমি আমার ব্যবসা শুরু করেছিলাম ছোট পরিসরে। আপনারা আমাকে বড় ব্যবসায়ী মনে করে আলাদাভাবে বা আলাদা ভিআইপি পার্সন হিসেবে না ভেবে আমাকে আপনাদের ভাই মনে করবেন। আমি আপনাদের ভাই- এটা শুনলেই আমি খুশি হই। আমি চুয়াডাঙ্গায় ব্যবসা করতে আসি নাই, কিছু নিতে আসি নাই; আমি চুয়াডাঙ্গার মানুষের জন্য কিছু দিতে এসেছি।’
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যে ইনকাম করেন, সেটির দিকে সবসময় খেয়াল করবেন, সেটি হালাল নাকি হারাম। আমরা ব্যবসা করব, তবে সেটি সৎ পথে করব। যারা ব্যবসায়ী আছেন, তাদের উদ্দেশ্য বলবো- আপনারা নিজেরা শক্তি এবং মনোবল অর্জন করেন।’ সামাজিক অবক্ষয় ও মাদক প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় আমি যখনই আসি, তখনই শুনি যুব সমাজ দিন দিন মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ীরা আজ শপথ নিই যে নেতা মাদকের আশ্রয় দেয়, তাকে আমরা চাই না। আমি একজন সামাজিক মানুষ, এই সমাজ থেকে এই মাদক নামক কলুষতা দূর করতে চাই। ব্যবসা করতে হবে চাঁদা দিয়ে, এটা আমি চাই না। আপনারা সময়কে কাজে লাগান। যতটুকু ব্যবসায় সময় দিবেন, ততটুকু আপনারা সফল হবেন। প্রথম চিন্তা করবেন আপনার নিজের কথা এবং আপনার পরিবারের কথা। আর ব্যবসায়ী যারা আছেন, আপনাদের ফোকাস থাকবে সবথেকে বড় মানুষ এবং বড় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করা। আপনাদের কাছে কথা দিয়ে যাচ্ছি এই চুয়াডাঙ্গাকে যা যা করা দরকার, আমি করে যাবো। আপনারা আমার এবং আমার পরিবারের পাশে থেকেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখানে যারা আছেন, সবাই ব্যবসায়ী। সমাজ পরিবর্তনের জন্য আপনাদের সবার প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যে পরিবর্তনের কথা বলি, সেই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেন আপনারা। আপনারা যারা ব্যবসা করেন, তাদের দোকানে দু-চারটা ছেলে কাজ করে। আপনারা তাদের বলেন কর্মচারী, আর বিদেশে আমরা বলি সহকর্মী। আপনারা তাদের কর্মচারী না ভেবে সহকর্মী ভাববেন; কারণ সে ছাড়া আপনার একার পক্ষে এত বড় দোকান চালানো সম্ভব না। আজকে আমার যে সফলতা, তা তো একদিনের নয়। আমি তো একদিনে সিআইপি হয়ে যাইনি। সকলেই সফলতা দেখে, পিছনের পরিশ্রম কেউ দেখে না।’
বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা ব্যবসায়িক ঐক্য পরিষদসহ অংশগ্রহণ করে আলী হোসেন সুপার মার্কেট মালিক সমিতি, আব্দুল্লাহ সিটি মালিক সমিতি, প্রিন্স প্লাজা মালিক সমিতি, ফাতেমা প্লাজা মালিক সমিতি, স্যানিটারি মালিক সমিতি, রেল বাজার মার্কেট মালিক সমিতি, হলপোট্টি মালিক সমিতি, নিচের বাজার দোকান মালিক সমিতি, মৎস্য আড়ৎ দোকান মালিক সমিতি, ভালাইপুর দোকান মালিক সমিতি, গমপট্টি দোকান মালিক সমিতি, আলোকদিয়া দোকান মালিক সমিতি, গাতগাড়ি দোকান মালিক সমিতি, বড় বাজার গলির মার্কেট দোকান মালিক সমিতি, মোহাম্মদী শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতি, সমবায় নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশক দোকান মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি দোকান মালিক সমিতি এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতি। অনুষ্ঠানে ২১টি সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সাহিদুজ্জামান টরিক সিআইপি-কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। এসময় সাহিদুজ্জামান টরিকের ভাই চুয়াডাঙ্গার আরেক কৃতী সন্তান প্রবাসী ব্যবসায়ী আরিফ জামানকেও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম লার্জ, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সিংহ রায়, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, নিচের বাজার ব্যবসায়ী মিলন, বাজার নির্বাহী কমিটির সদস্য বজলু, ফাতেমা প্লাজার ব্যবসায়ী রবিন আহমেদ, প্রিন্স প্লাজার ব্যবসায়ী আহসান, আব্দুল্লাহ সিটির তরিকুল ইসলাম, হল পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির মুক্তি প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক