হামিদুল আজম, আলমডাঙ্গা:
দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চাষিদের মধ্যেও প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ার আশায় আলমডাঙ্গার প্রান্তিক জনপদের কৃষকেরা সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বর্তমানে বাজারে সরিষার তেলের দাম কেজিপ্রতি ২১০ টাকার বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ কম হয়েছে। এসব জমিতে কৃষকরা আলুর চাষ করেছেন। ফলে সরিষার উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বারি-৭ ও ১৪ এবং বিনা-৪ ও ৫ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এ থেকে ৯৯ হাজার ৬৫ টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকার বেশি। জেলার চারটি উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদ ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে।
কৃষকেরা জানান, সরিষা আবাদে খরচ ও শ্রম তুলনামূলক কম। প্রতি বিঘা জমিতে হালচাষ, শ্রমিক, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচ পড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এতে গড়ে ৬ থেকে ৭ মণ ফলন পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। একই জমিতে পরে বোরো ধান চাষ করায় খরচও কম হয়, যা কৃষকদের লাভের মাত্রা বাড়ায়।
আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি মাধবপুর গ্রামের কৃষক রহমান আলী বলেন, গত বছর ৭ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিক্রি পেয়েছি। খরচ বাদে লাভ ছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সরিষা বিক্রির টাকা দিয়েই বোরো আবাদ করেছি। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে চাষ করেছি এবং মণপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছি।
বেলগাছি গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ বলেন, “সরিষার চাষ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোজ্যতেল হিসেবে এর ব্যবহারও বাড়ানো দরকার। এতে কৃষক ভালো দাম পাবে এবং মানুষের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে।”
আলমডাঙ্গা আনন্দধাম এলাকার ভাই ভাই অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী হাজী কাবলু মিয়া জানান, তার কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১০ টন সরিষার তেল উৎপাদন হয়। তবে দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত সরিষা না থাকায় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবাদ বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, সরিষার তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও শরীরের জন্য উপকারী। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর জেলায় ৫৭ হাজার কৃষককে উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
আলমডাঙ্গা অফিস