প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সিআইপি (এনবিআর) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিককে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এসময় বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর প্রেসিডেন্ট ও সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আমি ১৯৮৪ সালে মেট্রিক পাশ করেছি, আমার চোখের সামনে তৈরি এই নিউ মার্কেট। সিঙ্গাপুরে কেউ যদি আমায় বলে, “আমরা চুয়াডাঙ্গায় গেছিলাম” আমি তাদের প্রথমেই জিজ্ঞেস করি আপনি কি নিউ মার্কেটে গেছিলেন? চুয়াডাঙ্গা বুঝতে হলে নিউ মার্কেটে একটু চক্কর দেওয়া খুব জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখনই নিউ মার্কেটে ঢুকি, তখনই পুরো মার্কেটটা একবার ঘুরে দেখি। এবং আল্লাহর রহমতে নিউ মার্কেটের কোনো দোকান কখনোই ফাকা থাকে না। সব দোকানেই কম-বেশি কাস্টমার থাকে। মার্কেটে যারা পুরোনো ব্যবসায়ী, তারা অনেক পরিশ্রম করে আজ এই মার্কেটটা দাঁড় করিয়েছে। তাই আপনারা যারা নতুন ব্যবসায়ী, তাদের কাছে আমার অনুরোধ, এই মার্কেটে যারা প্রথম থেকে আছেন, আপনারা তাদের সম্মান করবেন, ইজ্জত করবেন। যে দেশের মানুষ বড়দের সম্মান করতে জানে না, সে জাতি কখনোই উপরে উঠতে পারে না।’
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আপনাদের ফোকাস থাকতে হবে উপরে ওঠার। কেউ এমনটা ভাববেন না যে, আমি কর্মচারী, আমি কখনো মালিক হতে পারবো না। চেষ্টা করলে সব সম্ভব। আমি নিজে সিঙ্গাপুরে একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে ১৯৯৫ সালে চাকরি নিয়ে গেছিলাম। এটাই আমার জীবনের শুরু। আমি তখন গেছি নতুন, কিছুই তেমন বুঝতাম না। আমার বেতন ছিল মাত্র ৭০০ ডলার। প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর আমি চাকরি করেছি। তারপর আমি নিজে ব্যবসা শুরু করেছি। আর আজ আমি এখানে। আপনারা যদি মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস জয় করতে পারেন, তবে আপনার উপরে উঠতে সময় লাগবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন প্রথম বিদেশে যায়, তখন ওখানে একটাই ট্রাভেল এজেন্সি ছিল। এখন ওখানে ১৪টা ট্রাভেল এজেন্সি। আমি সবাইকে হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছি। যখন কেউ আমার কাছে এসে বলে “ভাই অমক ট্রাভেল এজেন্সিটা কোথায়” আমি নিজে গিয়ে ওই ট্রাভেল এজেন্সিতে তাকে দিয়ে আসি। তখন ওরাও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায় থাকে। কারণ যিনি আমার কাছে ট্রাভেল এজেন্সি খুঁজতে এসছে, সে তো বাংলাদেশের টিকিটই কাটবে, সেই টিকিট তো আমার কাছেও আছে। কিন্তু সে তো আমার এজেন্সি খুঁজেনি। যাকে খুঁজেছে আমি তার কাছে দিয়ে এসেছি। এতে কি আমার বরকত কমে গেছে? একটুও কমেনি। হিংসা করা যাবে না, হিংসা পরিত্যাগ করলে সফলতা আপনার দারপ্রান্তে আসবেই।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা নিউমার্কেট ব্যবসায়ী পর্ষদের সহসভাপতি মেহেদী ইসলাম রাসেল। বক্তব্য দেন নিউমার্কেট ব্যবসায়ী পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, শফিউদ্দিন, মো. শাজাহান, নিশিত কুমার, প্লাবন, ডালিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম লার্জ, পিএসপির এমডি অপু সাহা ও কামাল উদ্দিন জোয়ার্দ্দার। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সদস্যসচিব সুমন পারভেজ খান।
নিজস্ব প্রতিবেদক