রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আরও কমে চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড

তীব্র শীতে অস্বস্তিতে সাধারণ মানুষ, সুখবর নেই
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০১-২০২৬ ইং
আরও কমে চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।


এদিকে, ভোরের আলো ফোটার আগেই শহরের বাসস্ট্যান্ড, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষের জটলা দেখা যায়। শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা কাঠ, খড় বা আবর্জনা জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। অনেকেরই অভিযোগ, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রানা নামের এক দিনমজুর বলেন, ‘ভোরে কাজের আশায় বের হলেই শরীর জমে আসে। হাত-পা ঠিকমতো নড়াচড়া করে না। তারপরও পেটের দায়ে বের হতে হয়। কিন্তু অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যেই ফিরে আসতে হয়।’
কৃষি শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম। কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, ‘সকালে মাঠে নামলেই মনে হয় শরীর বরফে ডুবে আছে। কয়েক ঘণ্টা কাজ করলেই হাত-পা অবশ হয়ে যায়। তবুও সংসারের জন্য কাজ থামানো যায় না।’ তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।


শিক্ষার্থীরাও শীতের কারণে বিপাকে পড়েছে। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে যাতায়াত করছে। লাবিব নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন এত ঠান্ডা যে বসে থাকা যায় না। হাঁটলে কষ্ট হলেও শরীর একটু গরম থাকে।’


শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বেলা ১১টার আগে ক্রেতার আনাগোনা খুবই কম। নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সকালবেলা দোকান খুলে বসে থাকতে হয়। শীত কমলে তবেই মানুষ বের হয়। এতে বিক্রি কমে যাচ্ছে।’


চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, ‘আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত