দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় ফের তীব্র শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে টানা চার দিন জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) একদিনের জন্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সোমবার থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।
হাড়কাঁপানো শীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না, ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে।
শীতের প্রভাব পড়েছে শিশু ও বয়স্কদের ওপরও। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলো শীত নিবারণের জন্য পুরোনো কাপড় ও খড়কুটোর আগুনের ওপর নির্ভর করছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহজুড়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শীতের পরিস্থিতি চলার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের সহায়তায় শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক