চুয়াডাঙ্গায় টানা চারদিনের শৈত্যপ্রবাহ আপাতত কেটে গেলেও শীতের দাপট এখনও পুরোপুরি কমেনি। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে স্বস্তি ফেরেনি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে আসছে অত্যন্ত কমে।
চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল রোববার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ৯ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তা নেমে গিয়েছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। টানা চারদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও বর্তমানে তা সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে আবারও নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে জেলার ওপর দিয়ে পুনরায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ। অনেককে খোলা স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের ভ্যানচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে ভ্যান চালানো খুব মুশকিল, সকাল থেকে এখনো ভাড়া সেভাবে পাইনি, তবুও পেটের দায়ে বের হয়েছি। শীতে অবস্থা খুব খারাপ।’ স্কুলশিক্ষার্থী মাইমুনা বলেন, ‘স্কুল শুরু হয়ে গিয়েছে, এখন সকাল সকাল উঠতে হয়। সকালে এত্ত পরিমাণ কুয়াশা থাকে যে ঠিকমত দেখাও যায় না।’
গৃহপরিচারিকা সীমা আক্তার বলেন, ‘আমি কয়েকটা মেসে রান্না করি। ভোরে যেতে হয়, এত সকালে ওঠাও যেমন কষ্টের, তার থেকে বেশি কষ্ট হয় ঠান্ডা পানি দিয়ে আসবাবপত্র পরিস্কার করতে। মনে কয় যেন হাত ফেটে যাচ্ছে ঠান্ডা পানিতে। কষ্ট হলেও কিছু করার নেই, আমি না গেলে তো মেসের মামারা না খেয়ে থাকবে।’
ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা সিহাব বলেন, ‘আগে সকাল সকাল বের হতাম সবজি নিয়ে পাড়া-মহল্লায়, এখনও বের হই, তবে আগে যেমন বিক্রি হতো, এখন তার চেয়ে অনেক কম হয়। সকালে অনেকে ঘুম থেকেই ওঠে না এই শীতের বেলায়। ফলে আমার বিক্রিও হয় না।’
নিজস্ব প্রতিবেদক