শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা, জরুরি অবস্থা জারি

প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক আটক করলো যুক্তরাষ্ট্র
  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০১-২০২৬ ইং
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা, জরুরি অবস্থা জারি

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে শনিবার ভোরে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকির পর এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কারাকাস ছাড়াও মিরান্দা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার। হামলার পর পরই দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ভেনিজুয়েলায় সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনিজুয়েলায় বড় আকারের হামলার সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে এবং বিমানে করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মার্কিন জাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, যেহেতু মাদুরোকে আটক করা হয়েছে তাই ভেনিজুয়েলায় আর কোনো হামলা চালানো হবে না। অপরদিকে আটককৃত মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।


এদিকে ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে সামরিক আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোর জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তার প্রুফ অব লাইফ বা বেঁচে থাকার প্রমাণ দাবি করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন চলছে নানা সমীকরণ। দেশটির বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নেতৃত্বে আনতে চান বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি, ফক্স নিউজ, এপি ও সিবিএস নিউজের। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, প্রায় ৯০ মিনিট ধরে কারাকাসজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ ও আকাশে আগুনের ঝলকানি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৩ সাল থেকে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।


গত বছরের নির্বাচনে মাদুরো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছেন বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলগুলো। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোকে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং গত সোমবারও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ভেনিজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে। তবে তারা সম্পদ দখলে সফল হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর অবরোধ আরোপের পাশাপাশি মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে।


এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনিজুয়েলার একটি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে যেখানে নৌকায় মাদক তোলা হচ্ছিল। এটিই ছিল ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জ্ঞাত স্থল অভিযান। যদিও এই হামলাগুলো সিআইএ চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থাটির হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। মাদুরো সরকার মাদক পাচারের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে সাগরে মার্কিন হামলার ঘটনায় অনেক দেশই একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে আটক হওয়ার আগে রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ভেনিজুয়েলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন নিকোলাস মাদুরো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাকাসে হামলার লক্ষ্য হলো ভেনিজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ দখল করা এবং দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে জোরপূর্বক ভেঙে দেওয়া। মাদুরো জাতীয় ভূখ-ে বহিঃসংকট ঘোষণা করে ডিক্রি স্বাক্ষর করেছেন এবং এর বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা যথাযথ সময়ে এবং যথাযথ পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন করতে। এদিকে ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভøাদিমির পাদ্রিনো। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা বিদেশি সেনার উপস্থিতি প্রতিরোধ করবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়েছে এবং দেশ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প একটি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।


এরপর তার স্ত্রীসহ আটক করে মাদুরোকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বোগোটায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এবং এর আশপাশে বিস্ফোরণের খবর জেনেছে এবং এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের দেশে ভ্রমণ না করার জন্য পুনরায় সতর্ক করেছে। এক নিরাপত্তা নোটিসে দূতাবাস বর্তমানে ভেনিজুয়েলায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে দেশ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। ভেনিজুয়েলার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে এখন চলছে নানা সমীকরণ। এমনকি প্রশ্ন উঠছে দেশটির বিরোধী নেত্রীর হাতেই ক্ষমতা যাচ্ছে কি না তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে দেশটির নেতৃত্বে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেবে কি না, সে প্রশ্নে এখনই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থানরত মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বে সমর্থন দেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে তার প্রশাসন ভাবছে।


তিনি বলেন, আমাদের এখনই এটা দেখতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে, এটা আপনারা জানেন। কিন্তু কী ধরনের নির্বাচন হয়েছিল, আমি জানি না। তবে মাদুরোর নির্বাচন ছিল একেবারেই লজ্জাজনক। মাদুরোকে আটক করার ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র আর চাপের কাছে নত হবে না। মাদুরোর আটক হওয়া দেখিয়ে দিয়েছে আমরা আর কাউকে আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে দেব না।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গা পাইলট স্কুলের ৮০ দশকের বন্ধু সমিতির ইফতার