রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় বিনামূল্যে ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

পরীক্ষায় ২০ জনের বেশি নারীর টিউমার শনাক্ত
  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০১-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় বিনামূল্যে ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

চুয়াডাঙ্গায় ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জে অবস্থিত ইমপ্যাক্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চুয়াডাঙ্গা রওশন শামস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের নারী স্বাস্থ্যকর্মীসহ দুই শতাধিক নারীর বিনামূল্যে ব্রেস্ট ক্যানসার শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। স্ক্রিনিং কার্যক্রমে ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট দল ও ব্রেস্ট সার্জন দল একযোগে কাজ করেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় ২০ জনের বেশি নারীর ব্রেস্টে বিভিন্ন ধরনের টিউমার শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নারীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দিকনির্দেশনা দেন।


এ উপলক্ষে আয়োজিত সচেতনতামূলক সেমিনারে সংযোগ ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিমের সভাপতি ডা. শাহরিয়ার সিয়ামের সঞ্চালনায় কি-নোট স্পিকার ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রখ্যাত অনকোপ্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সারা দেশেই আমি এ ধরনের কর্মসূচিতে কাজ করি, তবে চুয়াডাঙ্গায় মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ এখানকার মানুষের জন্য কার্যকর হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রেস্ট ক্যানসার একটি মারাত্মক রোগ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ব্যথাহীন থাকে। স্তন বা নিপলের আকারে পরিবর্তন এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্রেস্ট সার্জারি করা হয়।’


ব্রেস্ট ক্যানসার ছোঁয়াচে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে ভুল ধারণার কারণে রোগীদের এড়িয়ে চলেন বা নেতিবাচক আচরণ করেন, যা একেবারেই অনুচিত। রোগীর মানসিক সাপোর্ট ও সচেতন আচরণই দ্রুত সুস্থতার বড় সহায়ক।’ তিনি আরও জানান, ‘ব্রেস্ট ক্যানসার হলেই স্তন কেটে ফেলতে হবে- এ ধারণা ভুল। রোগের ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ রোগের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ জেনেটিক কারণে হয়, বাকিটা জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত।’
সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মাসিক শেষ হওয়ার পর প্রত্যেক নারীকে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করতে হবে। সেমিনারে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেভাবেই নিয়মিত পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত সম্ভব। সচেতনতাই পারে এই রোগ প্রতিরোধ করতে।’


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কর্মসূচির মূল আয়োজক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ সভাপতি আবু হাসানুজ্জামান নূপুর, ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন, ডা. মাসুদা বেগম রানু, ডা. শফিউল কবির জিপু, স্বাস্থ্যকর্মী ইরানি সুলতানা প্রমুখ। সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. একরামুল হক জোয়ার্দ্দারের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন ডা. মাসুদা বেগম রানু ও অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। ফরিদপুর হেলথ কটেজ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহযোগিতায়, চুয়াডাঙ্গা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এবং সংযোগ ভলান্টিয়ার্স চুয়াডাঙ্গা টিমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত