রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কুয়াশার চাদরে ঢাকা চুয়াডাঙ্গা, দুই দিন মেলেনি সূর্যের দেখা

শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন
  • আপলোড তারিখঃ ২২-১২-২০২৫ ইং
কুয়াশার চাদরে ঢাকা চুয়াডাঙ্গা, দুই দিন মেলেনি সূর্যের দেখা

সীমান্তঘেঁষা জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। গত দুদিন ধরে এ জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা আর উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।


চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গতকাল রোববার সকাল ৬টা ও ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ। এর আগে শনিবার তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৯ ডিসেম্বর ১৪.২ ডিগ্রি, ১৮ ডিসেম্বর ১৪ ডিগ্রি, ১৭ ডিসেম্বর ১৩ ডিগ্রি ও ১৬ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, অমাবস্যা ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারছে না। তবে এটি এখনই কোনো ‘শৈত্যপ্রবাহ’ নয়।


এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় সকাল থেকেই তীব্র শীতে কর্মজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন তারা, যাদের জীবিকার তাগিদে খুব ভোরে ঘর থেকে বের হতে হয়। পেশাভেদে ভভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে তাদের যন্ত্রণার চিত্র। শ্রমিক আক্কাস আলী বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে কাজে আসছি। সূর্যের মুখ দেখা নাই, হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। গরিবের তো আর ঘরে বসে থাকার উপায় নেই, কাজ না করলে পেট চলবে না।’


ভ্যানচালক জমির আলী বলেন, ‘রাস্তায় কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। প্যাডেল মারতে গেলে হাত জমে যাচ্ছে। শীতের কাপড়ের অভাবে শরীর কাঁপছে, কিন্তু জীবিকার টানে রাস্তায় নামতেই হয়েছে।’ অটো রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে লোকজন খুব কম। শীতের ভয়ে মানুষ বের হচ্ছে না, তাই ভাড়াও পাচ্ছি না।’


কলেজছাত্র আকাশ রহমান বলেন, ‘সকালে কুয়াশার মধ্যে কোচিং আর কলেজে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে হাত-মুখ অবশ হয়ে আসে। এমন শীতে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’ শিক্ষক নজির আলী বলেন, ‘শীতে বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত। আমার শিশু সন্তানকে নিয়েও চিন্তায় আছি।’


দিনমজুর তারেক আলী বলেন, ‘মাঠে ধান ও সবজির কাজে যেতে হিমশিম খাচ্ছি। ঠান্ডার কারণে শ্রমিকরা বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছে না। পেটের দায়ে এই হাড়কাঁপানো শীতেও পানিতে নামতে হচ্ছে।’ গৃহিণী আসমা হেনা চম্পা বলেন, ‘ভোর থেকে ঘরকন্যার কাজ করা এই শীতে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ভয়ে থাকতে হয়। রান্নাবান্না আর ধোয়া-মোছার কাজে বরফগলা পানি ব্যবহার করতে গিয়ে হাত জমে যায়।’


এদিকে, ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে ঠান্ডা-কাঁশির ওষুধের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। এদিকে কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় ধানের চারা ও শীতকালীন শাকসবজির খেতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই জেলাজুড়ে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে যেন ত্রাণ পৌঁছায়। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত