সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় মহান বিজয় দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক

জেলা প্রশাসকের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে সমালোচনার ঝড়
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১২-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় মহান বিজয় দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক

মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রাক্কালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার জারি করা একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি ‘কোনো রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে কোনো প্রকার বিজয় শোভাযাত্রা, শোডাউন, কনসার্ট ইত্যাদি না করার জন্য’ অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায় এমন কোনো নির্দেশনা না থাকায়, চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দারা এতে হতবাক হয়েছেন। তারা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতি বছর বিজয় দিবস উদ্যাপন করে, কিন্তু চুয়াডাঙ্গার এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।
সমালোচনার সূত্রপাত মূলত নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জারি করা নির্দেশনার ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে। গত ১৪ ডিসেম্বর ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী, প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপন করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত না করে এবং রিটার্নিং অফিসারের সম্মতি/অনুমতি গ্রহণ করে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে।


কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সেই ‘অনুমতি’ বা ‘শর্তাধীনে উদ্যাপন’-এর পথ খোলা না রেখে সরাসরি ‘শোভাযাত্রা, শোডাউন, কনসার্ট ইত্যাদি না করার জন্য অনুরোধ’ করা হয়। এই সরাসরি নিষেধাজ্ঞামূলক ভাষাই বিতর্কের মূল কারণ। জেলা প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নোবেল ইসলাম সূর্য নামে একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বাংলাদেশের কোথাও কোনো জেলা প্রশাসনকে দেখলাম না এমন বিজ্ঞপ্তি দিতে।’ হাইকোর্টের আইনজীবী ইসরাদ হোসেন রাশেদ জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘প্রদত্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তির কোনো বৈধতা নেই। এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি কেবলমাত্র মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার মানসিকতার পরিচয় বহন করে।’


এছাড়া, একজন সচেতন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এটি মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার স্পষ্ট অপচেষ্টা। ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগে অর্জিত বিজয় দিবস আমি পালন করব। এই বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’


চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর শুধু জাতীয় দিবস নয়, আমাদের গৌরবের দিন। এই দিনে দলীয়ভাবেও কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লংঘন নয়, যা নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট আছে। জেলা প্রশাসনের এই ধরনের নির্দেশনা কাম্য নয়। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে শতভাগ নিরপেক্ষতা কামনা করি।’


এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘যেহেতু চতুর্দিকে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের নানা রকমের ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাতে গুলিবিদ্ধও হচ্ছে এবং মারামারিও হচ্ছে। এখন যদি কালকে সকল রাজনৈতিক দল যার যার মতো করে মিছিল নিয়ে বের হয়, তাহলে তো সমূহ সম্ভাবনা থাকে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায়।’


তিনি আরও বলেন, ‘যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমরা আগেভাগেই অনুরোধ করেছি, যে আপনারা রাজনৈতিক ব্যানারে শোভাযাত্রা নিয়ে বের হয়েন না। পূর্ব সাবধানতার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা অনুরোধ করেছি। অন্য কিছু না। এমন নয় যে, আমরা কোনো পক্ষকে বের হতে বলেছি, আর কোনো পক্ষকে নিষেধ করেছি। সবাইকেই শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে অনুরোধ করেছি।’


তবে জেলা প্রশাসকের এই ‘পূর্ব সাবধানতার’ যুক্তিকে অনেকেই ‘জাতীয় দিবস উদ্যাপনের অধিকার খর্ব করা’ হিসেবে দেখছেন। চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী এবং মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের সাক্ষী, সেই মাটিতে বিজয় দিবস উদ্যাপনের অধিকার নিয়ে এমন বিতর্ক জেলার জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা জেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জুবায়ের খানের সঙ্গে