চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সাথে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা সমাজের দর্পন, সমাজের সব ভালো কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অনন্য। সকল প্রতিকূল পরিবেশে সাংবাদিকবৃন্দ পুলিশের সাথে কাজ করে। আপনাদের জেলায় এসেছি অনেকদিনই হলো। আমরা সকলেই রাষ্ট্রের জন্য কাজ করি। তাই আপনাদের সাথে আমাদের পরিচয় থাকাটা দরকার।’
এসময় নবাগত পুলিশ সুপার নিজের পরিচয় ব্যক্ত করেন এবং একে একে সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ নিজেদের পরিচয় প্রদান করেন। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকবৃন্দ জেলার সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘জেলায় ট্রাফিক সমস্যা একটি বড় সমস্যা। শহরের বিশেষ বিশেষ সড়কে সবসময় প্রচুর যানজট থাকে, কিন্তু সেখানে ট্রাফিক পুলিশ তেমন কোনো ভূমিকা পালন করে না। অটোরিকশার দৌরাত্ম্য তো বেড়েই চলেছে। এছাড়া শহরে মাদকের প্রভাব বেড়ে গিয়েছে, ফলে চুরি ছিনতাই ও বেড়েছে।’
দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা শহরে অনলাইন জুয়া ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এর আগেও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমি এ বিষয়ে বলেছি, এদিকে একটু বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের শহরে এর আগে বেশ কয়েকবার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়গণ নিজে উদ্যোগ নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু এখন এই ক্যামেরাগুলোর কী অবস্থা, আমরা সেটা বিস্তারিত জানি না। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি এই ক্যামেরাগুলোকে সচল করবেন।’
কিশোর গ্যাং বৃদ্ধির ব্যাপারে সাংবাদিক জামান আখতার বলেন, ‘শহরে কিশোর গ্যাং বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এই সমস্যা আগেও ছিল। এরা তুচ্ছ ঘটনায় যখন তখন হত্যা বা জখমের ঘটনা ঘটাচ্ছে। যেহেতু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয় চলে এসেছে, এগুলো হয়ত বাড়বে। তাই প্রশাসন এদিকে একটু বিশেষ নজর দিলে চুয়াডাঙ্গাবাসী স্বস্তিতে থাকবে।’
সাংবাদিকদের থেকে মন্তব্য শোনার পর নবাগত পুলিশ সুপার বলেন মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা অনেক বিজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ, খুব অল্প সময়ে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তুলে ধরেছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় জনবান্ধন পুলিশিং করা। পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করা। আগামী নির্বাচনে সুন্দর একটা পরিবেশ জেলাবাসীকে উপহার দিতে চাই। অপরাধ প্রবণতা রোধ করতে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে, অনেক জায়গাতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সীমান্তের দিকে আমরা বিশেষ নজর রেখেছি। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে। হাইওয়েতে ডাকাতি রোধের ব্যাপারেও আমাদের সকল কার্যক্রম চলমান আছে। গাছ ফেলে বাস ডাকাতির যে ঘটনাগুলো আছে, সেই ঘটনায় ডাকাতদের একটা তালিকা তৈরি করেছি, এবং ডাকাত গ্রেপ্তারসহ এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, এ জন্য সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার প্রয়োজন। নম্বর, লাইসেন্সবিহীন গাড়িগুলোর ওপর প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে- আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমান, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি, মাছরাঙা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফাইজার চৌধুরি, স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি জহির রায়হান, দৈনিক খাসখবরের নিজস্ব প্রতিবেদক আলমগীর রনি, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলাম সামি, আজকের চুয়াডাঙ্গার নিজস্ব প্রতিবেদক মুন্না রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক