শিক্ষার ক্ষেত্রে আবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখল চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। সদ্য প্রকাশিত ফলে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে কেবল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকেই সরাসরি মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৩ জন, যা জেলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন- জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের শহিদুল হকের ছেলে সাদিকুর রহমান সাদিক, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মেধা তালিকায় ৮১তম স্থান অর্জন করে চুয়াডাঙ্গার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়া জেলার কৃতী শিক্ষার্থীরা দেশের নামকরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে তাসফিয়া করিম সপ্তমী ও আনিকা তাসিন উর্বি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, মোছা. আনিসা তাবাসসুম মারিয়া ও দেব জ্যোতি বসু দীপ্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ, তামান্না তাবাসসুম জ্যোতি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এবং মো. নাফিস সাদিক সিফাত মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ডেন্টাল কলেজেও সাফল্য এসেছে; মো. শাহরিয়ার রহমান সিয়াম সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল কলেজ এবং ফারিয়া তাসনিম রোজা ময়মনসিংহ ডেন্টাল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হলো চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। এই কলেজ থেকে চান্স পাওয়া উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থীরা হলেন- অদ্রি ও ডেন্টালে সিয়াম (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল), সিলভি, সাবিত, দীপ্ত, মারিয়া, মাইশা ও অভি (খুলনা মেডিকেল), জ্যোতি (ফরিদপুর মেডিকেল), জান্নাতুল মাওয়া তুলি, সামারা, আনিকা, মৌলি ও সপ্তমী (রাজশাহী মেডিকেল), সাজিম (বরিশাল মেডিকেল), নাফিস (মাগুরা মেডিকেল), নাফিজ (সাতক্ষীরা মেডিকেল) এবং বাঁধন (নেত্রকোনা মেডিকেল)। একসঙ্গে এতজন শিক্ষার্থীর এই ঈর্ষণীয় সাফল্য জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
মেধাতালিকায় স্থান করে নেওয়া এই শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন, সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি অপরিহার্য। আনিকা সপ্তম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ বছর ৩ মাস কোনো ক্লাস অনুপস্থিত না থেকে নিয়মানুবর্তিতার এক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আবার, সিয়াম ও সিফাত ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং করার পরও মেডিকেলের জন্য তেমন প্রস্তুতি ছাড়াই ডেন্টাল ও মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে তাদের মৌলিক মেধার প্রমাণ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সপ্তমী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ সময় পর্যন্ত প্রায় দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে কঠোর অধ্যবসায় চালিয়ে গেছেন। দেব ও রোজা যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৩ বছর এবং সাড়ে ৪ বছর ধরে কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। জ্যোতি এবং মারিয়াও যথাক্রমে দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত নিয়মিত পড়াশোনা করে এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে শুধু নিজেদের জীবনকেই নয়, পুরো জেলার তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই শিক্ষার্থীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক