রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন

আইনশৃঙ্খলা সন্তোষজনক, আত্মহত্যা ও মাদক নিয়ে উদ্বেগ
  • আপলোড তারিখঃ ১৫-১২-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন

চুয়াডাঙ্গা জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক থাকলেও আত্মহত্যা, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো কয়েকটি বিষয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সমন্বিত সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জেলা প্রশাসক। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।


সভায় জানানো হয়, অন্যান্য মাসের তুলনায় গত নভেম্বর মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অপরাধের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ টহল আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


গত মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৫টি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ১১টি অভিযানে ১৫টি মামলায় ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক পরিবহন আইনে ৭৮টি অভিযানে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে।


এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ৫৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৬৫টি মামলায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬১০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অপরাধ দমন ও সামাজিক ব্যাধি রোধে প্রশাসনের কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও গতিশীল হয়েছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও জোরালো সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আত্মহত্যা প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এই প্রবণতা কমাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি জেলার তামাক চাষিদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আত্মহত্যা প্রবণতা রোধে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মসজিদ ও মন্দিরে উপাসনার সময় মোটিভেশনাল বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।


সভা শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।


সভায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামীম রেজা ডালিম এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল। উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, ছাত্রনেতা আসলাম হোসেন অর্ক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি শাহআলম সনি প্রমুখ।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত