চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বার্ষিক ফায়ারিংয়ের অনুশীলনের সময় এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাফরপুরস্থ বিজিবি ক্যাম্পে পুলিশের মাস্কেট্রি ফায়ারিং চলা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। গুলিবিদ্ধ বাবু হোসেন (৩২) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি মন্ডলপাড়ার হামিদ উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয়রা
জানান, বাবু হোসেন মোটরসাইকেলযোগে হায়দারপুর থেকে সাতগাড়ির দিকে
যাচ্ছিলেন। এসময় একটি বুলেট তার বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়
লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে প্রাথমিক
চিকিৎসা শেষে বাবুকে উন্নত চিকিৎসা ও বুলেট অপসারণের জন্য রাজশাহী মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন আলী বলেন,
‘বাবু কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। বিজিবি ক্যাম্পের ওখান থেকে গুলি লাগলে
পথের মধ্যে তার এক ছোট ভাই সায়েমের সাথে দেখা হলে মোটরসাইকেল থামিয়ে বাবু
সাইমকে বলে “আমার বুকের এখানে কী হয়েছে দেখতো।” তখন সাইম দেখে বুকে
অনেকখানি ছিদ্র হয়ে গেছে, তখন বুঝতে পারে হয়ত গুলি লেগেছে। তখন ওখানে
অবস্থানরত অফিসাররা বলেন, “আপনারা ওনাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, আমরা
আসছি।” কিন্তু তারা এখনো অবধি আসেননি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু
জানান, ‘বাবু ভাই মোটরসাইকেল নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। তিনি বিজিবি
ক্যাম্পের পিছনে হায়দারপুর গ্রামের মাঠ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি গুলিবিদ্ধ
হন।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ
আহমেদ শিপ্লব বলেন, ‘জাফরপুর বিজিবি ক্যাম্পে প্রতিবছর শীতকালীন মহড়া হয়।
এই মহড়া হওয়ার পূর্বে সাধারণ জনগণকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তারপরও কেন এমন
হচ্ছে, সেটার সমাধান প্রয়োজন। কয়েক বছর আগে ওই মাঠের পিছন থেকে আমাদের এক
বোন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।’
সদর হাসাপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক
ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘আজকে জরুরি বিভাগে বাবু নামে একজন
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসেন। তার সাথের লোকজন জানায় চুয়াডাঙ্গা বিজিবি
ক্যাম্পের ওখান থেকে আসার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আমি তাকে পরীক্ষা করে
দেখতে পায়, তার বুকের বাম পাশে হাফ ইঞ্চি মতো ক্ষত। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে
তাকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের
সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, তার বুকের বাম পাশে একটি
বুলেট প্রায় এক ইঞ্চি মতো বিদ্ধ হয়েছে। এখানে অস্ত্রপোচার সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গার
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যতদুর শুনছি ফারায়িং মাঠের পিছন
থেকে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিজিবির অনুশীলন মাঠটি যথেষ্ট নিরাপদ এবং
নিরাপত্তা বেষ্টিত। ফায়ারিং মাঠের প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে মাঠের রাস্তা
দিয়ে মোটরবাইকে করে তিনি যাচ্ছিলেন বলে জেনেছি। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
যাইহোক, আমরা তার এবং তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর রাখছি। জেলা পুলিশ তার
পাশে আছে। তবে শুনেছি ইতোপূর্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ওই মাঠ থেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক