সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির শক্তি প্রদর্শন, নির্বাচনী সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত

চুয়াডাঙ্গা হবে পরিবর্তনের সূতিকাগার- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

ধানের শীষ জিতলে উন্নয়নের নতুন মাত্রা যোগ হবে : বিএনপির প্রার্থী বাবু খান
  • আপলোড তারিখঃ ১১-১২-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা হবে পরিবর্তনের সূতিকাগার- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

দামুড়হুদার লোকনাথপুর গ্রামের শান্ত ফুটবল মাঠটি গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকেই যেন এক উৎসবে রূপ নেয়। বেলা ২টা বাজতেই চারদিক থেকে ঢল নামতে থাকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের। কেউ বাস-ট্রাকে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ ইজিবাইকে, কেউ আবার দলবদ্ধ মিছিলে পা মেলাতে মেলাতে ছুটে আসে সমাবেশস্থলের দিকে। জীবননগর, দামুড়হুদা, দর্শনাসহ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রতিটি প্রান্তের নেতা-কর্মীদের সমবেত কণ্ঠে মুহূর্তেই জমে ওঠে ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্য ধীরে ধীরে রূপ নেয় জনস্রোতে। সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই লোকনাথপুর ফুটবল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে পড়েন আশপাশের সড়কে। ধানের শীষের প্রতীক আঁকা কাপড় গায়ে জড়িয়ে, মাথায় বেঁধে অনেকেই হাজির হন উৎসবের আমেজে। স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির সেই ঢল সাময়িক যানজটও তৈরি করে।


বেলা তিনটার আগেই পুরো প্রাঙ্গণ রূপ নেয় পতাকা ও স্লোগানের এক সমুদ্র-বুকে। নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস, আর মাইকের গর্জন মিলে লোকনাথপুর যেন একদিনের জন্যে পরিণত হয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে। বারবার শোনা যায়- ‘ভোট চাই ধানের শীষে!’ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর আগমনের সময় মাঠজুড়ে স্লোগানের গর্জন বেড়ে যায় কয়েকগুণ। হাত নেড়ে তিনি অভিবাদন জানান জনসমুদ্রকে। নেতা-কর্মীদের চোখে-মুখে তখন এক ধরনের উচ্ছ্বাস, পরিবর্তনের আকাক্সক্ষায় ভরপুর।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ’র সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে মাঠে থাকা বাবু খানের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি সমাবেশে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগায় কর্মীদের মাঝে। তাঁর হাত উঁচু করে দেয়া অভিবাদন পেয়ে চারদিক থেকে চিৎকার উঠে- ‘বাবু ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি!’


সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যেও আমাদের জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো ক্রেডিট নেননি। গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের পক্ষে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই করেছে বাংলাদেশে একটি মাত্র দল জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দল। আমরা সমালোচনা নয়, ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন-নিপিড়ীনের মধ্যদিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি আমরা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে, এখন আমাদের সামনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার। আজকালের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেছে। এখন বিএনপির ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে। এখন ভোটের মাঠে ধানের শীষ মার্কার ফসলে ভরা মাঠ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফায় বাংলার জনগণের দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে। যেখানে যুবকদের বেকারত্ব ভাতা, কৃষিতে বিপ্লব, এলাকার উন্নয়ন, সমাজের উন্নয়ন, দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আছে। বিএনপি এগুলো বাস্তবায়ন করতে চায়। দল ক্ষমতায় আসলে প্রথম ৫ বছরে দেড় কোটি তরুণ যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিএনপি। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে সংসদ নির্বাচনে বাবু ভাইকে জয়যুক্ত করতে হবে।’


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কৃষকদের কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, আমরা ক্ষমতায় আসলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করে টিকে আছি। আমাদের বিএনপির ৭শ নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দিনের ভোট রাতে করব না। জনগণ যদি আমাদের চায়, আমরা ক্ষমতায় আসবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছে দিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন জাতি আমরা তৈরি করতে চাই। ইতিবাচক রাজনীতির সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই। বিএনপির ৩১ দফায় দেশের সকল শ্রেণির জনগণের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে। আপনারা সৌভাগ্যবান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী, সৎজন প্রার্থীদের মধ্যে সামনের কাতারে রয়েছেন আপনারা প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই অঞ্চলের মা-বোনেরা, সন্তানেরা, ছোট ভাইদের ভোটটি ধানের শীষ প্রতীকে দিয়ে ব্যালট বাক্সটি পরিপূর্ণ করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।’



অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমরা বিপ্লব করেছি গত ১৬ বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের লড়াই, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। এই সংগ্রামে চুয়াডাঙ্গার মানুষ বারবার তাদের শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে।’ তিনি উপস্থিত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গা হবে পরিবর্তনের সূতিকাগার, মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করবে।’


সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘সবার আগে নিজ পরিবারের ভোট নিশ্চিত করুন। প্রতিটি ভোট ধানের শীষের পক্ষে দিন। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইব। ধানের শীষ জিতলে উন্নয়নের নতুন মাত্রা যোগ হবে।’


জেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারলে অতীতের সকল উন্নয়নের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আপনারা জানেন- একটি জাতীয় নির্বাচনে দুটি বিষয় থাকে। একটি থাকে জাতীয় সমস্যা, এবং সেই সমস্যার সাপেক্ষে জাতীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা। আর দ্বিতীয়টি থাকে স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা। আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্লোগান, “জনগণের কাছে থাকুন, জনগণের পাশে থাকুন”। সেই কাছে থাকা এবং পাশের থাকার অংশ হিসেবে আমরা ছোট ছোট পথসভা করেছি। সেখানে আপনাদের সমস্যা এবং দাবিগুলো শুনেছি। আমরা স্থানীয় দাবিগুলো পূরণের চেষ্টা করব।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হবি, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী নোয়াব আলী, দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিদুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান মিয়া, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী শওকত খন্দকার, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবীর, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী, দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী, জীবননগর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী, নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান টুনু, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা জেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জুবায়ের খানের সঙ্গে