ঐতিহ্যবাহী দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকলে ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চলমান মাড়াই মৌসুম সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করি। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে এবং শুল্ক ও কর বাবদ সরকারকে ১৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। আখ চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের মূল্য বৃদ্ধি করে প্রতি কুইন্টাল ৬০০ টাকা থেকে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে মূল্য ৫৮৭ টাকা থেকে ৬১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে কাজ চলছে। আখ উৎপাদন বাড়াতে পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ অনুযায়ী আখ চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিল্প উপদেষ্টা আরও বলেন, আখের ফলন বাড়াতে চিনিকল খামারগুলো এবং প্রগতিশীল আখ চাষিদের সঙ্গে মিলিতভাবে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই সব উদ্যোগের ফলে আখ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তারা আশা করেন। পাশাপাশি চিনিকল আধুনিকায়ন, আধুনিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণ, উচ্চ ফলনশীল আখ উৎপাদন, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।
বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের ১৫ বছরের অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সময় লাগবে। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য আমরা নিজেরা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছি। শিল্প মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে।’ বিএমারী চিনিকল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে। আমরা মনে করি খুব শিগগিরই এটি চালু হবে।’
কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, চলতি ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে ৬৮ কার্যদিবসে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মিলটি চালু হতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি অন্যান্য বারের মতো মিলটা ভালোভাবে চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম। আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে বেশি বেশি আখ লাগানোর জন্য কয়েকজন কৃষককে সংবর্ধনা, স্মারক প্রদান করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা। এরপর ডোঙায় আখ ফেলে মাড়াই মৌসুমের কার্যক্রম শুরু করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেরুর মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভুঁইয়া।
দর্শনা অফিস