চুয়াডাঙ্গায় শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোষক তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। শীত নিবারণের অন্যতম উপকরণ হওয়ায় এসব লেপ-তোষকের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কারিগরদের এখন দম ফেলারও সময় নেই। যদিও সারা বছরই অল্পস্বল্প কাজ থাকে, কিন্তু নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শিল্পে দেখা যায় সবচেয়ে চাঙা অবস্থা।
চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা, জীবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ধুনকরদের কর্মচাঞ্চল্য এখন চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে বিকেল- তুলা পরিষ্কার, ধুনন, সেলাই, কাপড় মোড়ানো-নানামুখী কাজে ব্যস্ত তারা। স্থানীয় হাট-বাজারে লেপ-তোষক তৈরি করে মজুদ রাখা হচ্ছে। কেউ দোকানে বসে কাজ করছেন, আবার কেউ গ্রামে-গ্রামে গিয়ে পুরাতন লেপ নতুন করে তৈরি করে দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, গলির বাজার, আদালতপাড়া ও কোর্ট মোড়- এসব স্থানে লেপ-তোষক বিক্রি ও তৈরির ধুম লেগেছে। একইভাবে আলমডাঙ্গা পৌরশহর, দামুড়হুদা স্টেডিয়াম এলাকা, ডুগডুগি, দর্শনা, জীবননগর বাসস্ট্যান্ড ও আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকাতে এখন লেপ-তোষক তৈরির দৃশ্য বেশ জমজমাট।
কারিগর সাইফুল ইসলাম বলেন, শীত পড়লেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিনে ১৫-২০টা লেপের অর্ডার মিলে। তবে কাপড় ও তুলার দাম অনেক বেশি হওয়ায় আগের মতো লাভ করা যায় না। তিনি আরও জানান, লেপের কাপড় গজপ্রতি ৫০-১০০ টাকা, তোষকের কাপড় ৭০-১৫০ টাকা। গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ১২০-২০০ টাকা এবং শিমুল তুলা ৪৫০ টাকা। লেপ তৈরির মজুরি ৩০০-৪০০ টাকা, তোষক ২০০-৩০০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা পুরাতন লেপ নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা পৌরশহরের আসমা বেগম বলেন, নতুন লেপ নিতে গেলে খরচ অনেক। তাই পুরাতন লেপে নতুন তুলা মিশিয়ে বানিয়ে নিচ্ছি। এতে খরচও কম হয়, ব্যবহারও ভালো হয়। জীবননগর পৌরশহরের লেপ-তোষক বিক্রেতা জিকু মিয়া বলেন, তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোষকের দামও বেড়েছে। তাই অনেক ক্রেতা নতুন লেপের পরিবর্তে তুলনামূলক সাশ্রয়ী কম্বলের দিকে ঝুঁকছেন। বাজারে দেশি-বিদেশি নানান ধরনের কম্বলের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক