চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বুজরুকগড়গড়ি এলাকায় খেজুর গাছের রস পাড়া নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে সোহেল রানা (২৫) নামের এক যুবককে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বুজরুকগড়গড়ী সংলগ্ন বাংলারদাড়ি মাঠের ভুট্টা খেতের ভেতর তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। নিহত সোহেল রানা বেলগাছি বকচর পাড়ার আশাবুলের ছেলে। শীত মৌসুমে তিনি বাবার সঙ্গে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করতেন।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সিআইডির পৃথক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এসময় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম পরিদর্শন করেন।
নিহতের বড় ভাই জুয়েল রানা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বেলগাছি জোয়ার্দ্দার পাড়ার তাহেরের ছেলে ফারুকের সঙ্গে খেজুরের রসপাড়া নিয়ে সোহেলের বিরোধ হয়। সেই ঘটনায় ফারুক ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহেলকে কোপ দিলে তার মাথায় সেলাই করতে হয়েছিল। সে কারণে কয়েকদিন তিনি মাঠে যেতে পারেননি। গত সোমবার সেলাই কাটার পর বিকেলে বাসা থেকে বের হলেও আর ফিরে আসেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগের মারধর ঘটনার সময়ও ফারুক আমার ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। সেই শত্রুতার জেরেই সোহেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে, গতকাল বেলা তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ওয়াহিদ মাহমুদ রবিনের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এবং গতকাল মাগরিব নামাজের পর স্থানীয় বেলগাছি কবরস্থানে নিহত সোহেলের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আর এ মামলায় বেলগাছির জোয়ার্দ্দার তাহেরের ছেলে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ বুধবার আদালতে তোলা হবে।
প্রতিবেদক জীবননগর