সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আজ দর্শনা ও জীবননগর মুক্ত দিবস

আজ ৪ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দর্শনা ও জীবননগর এলাকা হানাদার মুক্ত হয়।

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-১২-২০২৫ ইং
আজ দর্শনা ও জীবননগর মুক্ত দিবস

আজ ৪ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দর্শনা ও জীবননগর এলাকা হানাদার মুক্ত হয়।


দর্শনা:
আজ ৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীর আবস্থান লক্ষ্য করে তিন দিকে থেকে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করে পাকবাহিনীকে হটিয়ে দর্শনা মুক্ত করে।  মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারে দর্শনা শান্তি পাড়া ও পরাণপুর গ্রামের মাঁঝামাঝি মাঠে পাক হানাদার বাহিনী ঘাটি করে আছে। এ খবর পেয়ে যুদ্ধকালিন কমান্ডার লিয়াকত আলীর নেত্রীত্বে আব্দুল হামিদ তোতা, নুর হাকিম, গোলাম হোসেনসহ ৩০ মুক্তিযোদ্ধা এবং ৩০০ জন মিত্র বাহিনী ভারতের গেদে বোর্ডারের ক্যাম্পে বসে রাতের খাবার খেয়ে পাক-বাহিনীর অবস্থানের দিকে রওনা হয়।


বারাদী সীমান্ত পেরিয়ে পারকৃষ্ণপুর মদনা হয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের নিকটবর্তী স্থান দিয়ে রাবারের নৌকা চেপে ৩০ জন করে মাথাভাঙ্গা নদী পার হয়ে ধাঁপাড়ী ও তালবাগান মাাঠের উত্তর-পশ্চিম কনে আবস্থান নেন। তারা ৩৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ধাঁপাড়ী ও তালবাগান মাাঠের উত্তর-পশ্চিম কনে পৌঁচ্ছে আমরা অবস্থান নিয়ে ব্যাংকার খুড়ে ফেলে। এরপর রেকি করে পাকবাহিনীর আবস্থান বুঝে রাত ৩টার দিকে সকল প্রস্তুতি সেরে পাক-হানাদার বাহিনীর গুলি, সেল, মোটার হামলা শুরু করে। রাত এক নাগাড়ে গুলি বর্ষন শুরু করলে পাক-হানাদার বাহিনীও পাল্টা সেল মারতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ২ ঘন্টা ৪৫ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলে। মুহুর-মুহুর গুলি, সেল মটার সেল নিক্ষেপ করার ফলে এক পযার্য় পাকবাহিনী নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। তাদের লোকেশন বুঝতে না পেরে পাক-বাহিনী রেলগেট ও ডাঙ্গাপাড়া মাঠের দিকে সেল,মটার ও গুলি বর্ষন করতে থাকে।


ফলে তারা তেমন কোন ক্ষতি না হলেও মিত্রবাহিনীর দুইজন নিহত ও একজন আহত হয় পাক-বাহিনীর। অপর দিকে পাক-হানাদার বাহিনী ব্যাপক হতাহত হয়। একদিকে আমাদের সাথে লড়াই চলছে। আপরদিকে উথলী দিক থেকে আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পাক-বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এ সময় তিনদিক থেকে মুক্তি বাহিনীর আক্রমনে পাক-হানাদার বাহিনী নাস্তানাবুদ হয়ে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাক-হানাদার বাহিনী রেলপথ ও সড়ক পথ ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরের দিকে পালাতে থাকে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দর্শনা কেরু চিনিকলের জেনারেল অফিসের সামনে মিত্র-বাহিনীর প্রধান মি. বুফে ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলীর নেত্রীত্বে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। 



জীবননগর:
আজ ৪ ডিসেম্বর। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। এদিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর জীবননগর ছেড়ে ঝিনাইদহ অভিমুখে পালিয়ে যায়।  জীবননগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা দলুর উদ্দীন জানান, ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জীবননগরে পাকহানাদার বাহিনীর পতন ঘটলেও চূড়ান্ত বিজয় আসে ৪ ডিসেম্বর। এদিন ভোরে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কমান্ডার মেজর দত্ত ও ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান প্রয়াত জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা জীবননগর, দত্তনগর, সন্তোষপুর ও হাসাদহ গ্রামে পাকবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে ঝাপিয়ে পড়েন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। এই যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়। এসময় থানায় ফেলে যাওয়া পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন নারী ধর্ষণকারী ও অমানুষিক নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত মুনছুর আলীর ব্যবহৃত জিপ গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা আগুন ধরিয়ে দেন এবং থানার মালখানা থেকে উদ্ধার করেন পাশবিক নির্যাতনের পর সদ্য হত্যা করা ৭-৮ জনের অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ। এদিন স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা জীবননগরের মাটিতে প্রথম উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলার পতাকা। শুরু হয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রসুলকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মজিবর রহমানকে থানা ইনচার্জ করে বে-সামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। সে দিনের সেই ৪ ডিসেম্বর জীবননগর মুক্ত দিবস হিসেবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আজও এ দিনটি পালন করে আসছে।-



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা জেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জুবায়ের খানের সঙ্গে