জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরমে। ৫১ শয্যার ভবন বলা হলেও এখনো জনবল ৩১ শয্যার, তাতেও সংকট। চিকিৎসক-নার্স মিলিয়ে শূন্য পদ ৪২টি। অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। জানা গেছে, ১৯৭০ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১৮ সালে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি জনবল। নতুন ভবন উদ্বোধনের সাত বছর পরেও কার্যক্রম চালু হয়নি পূর্ণ সক্ষমতায়।
বর্তমানে অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট, গাইনি মেডিসিনসহ ৬ চিকিৎসকের পদ খালি। পাশাপাশি ২য় থেকে ৪র্থ শ্রেণির আরও ৩৩টি পদ শূন্য। এরই মধ্যে সহকারী সার্জন ডা. মোস্তফা কামাল ডেপুটেশনে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকায় ছোটখাটো সমস্যা হলেই রেফার্ড করে যশোর বা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালে থেকেও যেন হাসপাতাল নাই।
নার্সিং সুপারভাইজার মোছা. রানু খাতুন বলেন, চাপ বেশি থাকাই চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের সবাইকে। অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট না থাকায় ছোটখাটো অপারেশনও করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন রোগী রেফার্ড হচ্ছে- স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছে।
জীবননগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম আর বাবু বলেন, সাড়ে চার লাখ মানুষের ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু ৫১ শয্যার জনবল না থাকায় এটি এখন চিকিৎসার জায়গা নয়, ভোগান্তির জায়গায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকবুল হাসান বলেন, রোগী থাকে প্রায় ১০০ শয্যার মতো, কিন্তু জনবল মাত্র ৩১ শয্যার। অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় গুরুতর রোগীদের রেফার্ড করতে হচ্ছে। জনবল সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি। স্থানীয়দের দাবি- অ্যানেস্থিসিয়া, কনসালট্যান্টসহ সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানো হোক।
জীবননগর অফিস