চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সাংবাদিকদের সহযোগিতায় জেলার সব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় পরিচয়পর্ব শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জেলায় আমি নতুন। আপনারা এই জেলার অভিজ্ঞ মানুষ, অনেক কিছুই আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলে আমার দায়িত্ব পালন সহজ হবে।’
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী জেলার ইতিহাস বহন করে, আমি চাই এই নদীকে বাঁচাতে। এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই। নদী থেকে আপনারা পানি নেন, মাছ খান, গোসল করেন, নদীতে আপনাদের সকলের হক। তবে নদী দূষণ করতে পারবেন না। যেদিক থেকে দূষণ করবেন, সেখানেই আমাদের প্রশাসনের চেহারা দেখতে পাবেন। আমরা কঠিন হবো, জরিমানা হবে না, সরাসরি জেলে দেব দূষণকারীদের। কোনো ছাড় নেই, পরিবেশ আইনে জেলে দেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সামনের জাতীয় নির্বাচন বিগত বছরগুলোর থেকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করা আমার লক্ষ্য। আমি একা কখনো এটা পারবো না, আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এটা সম্ভব।’
মতবিনিময় সভায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সাথে আমাদের চুয়াডাঙ্গার একটি বড় গৌরবময় ইতিহাস আছে। আমি একটি অনুরোধ করব, একটি প্রত্যাশা এবং একটি জিজ্ঞাসা। আমার অনুরোধটা হলো- আমাদের চুয়াডাঙ্গার নির্মাণাধীন যে ফ্লাইওভার, সেটা নিয়ে আমরা খুব যন্ত্রণার মধ্যে আছি। এটা একটা বিষফোঁড়া হয়ে আছে। আপনি যেহেতু পিআরডি-তে ছিলেন, আপনার অর্থনীতি বিভাগের ভেতরে এই ফান্ডিংগুলো আসে অন্যান্য বিভাগ থেকে। যদি কোনো যোগাযোগ থেকে থাকে, তবে আমাদের এই যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করুন। কাজটা বন্ধ হয়ে আছে।’
এ কথার প্রতিউত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো ভুল আছে। যারা এটার নকশা করেছে, নকশাটাই ভুল ছিল। নকশাটা পরিবর্তন করে নতুন নকশা করতে হয়েছে। যেই নতুন নকশাটা করেছে, সেটাও পরিপূর্ণ না। ওভারপাস করবে রেলওয়ের ওপর দিয়ে, সেখানে রেলওয়ের কী কী সুবিধা-অসুবিধা আছে, এটা নিয়ে রেলওয়ের সাথে না বসে তারা নিজেদের মতো স্টিমেট করেছে। এসব সমস্যার কারণে বাজেট না মেলায় আজ এই অবস্থা। বাজেট না পাইলে জমি নিতে পারছে না। অদক্ষতার কারণে আজ এই অবস্থা। কাজটা খুব ছোট, কিন্তু চতুর্দিকে জড়িয়ে গিয়েছে সমস্যায়। ভূমি অধিগ্রহণ এখনো হয়নি। কারণ টাকাই পাইনি আমরা এখনো। ডিসির ফান্ডে কোনো টাকা আসেনি, যদি টাকা আসতো, তবে আমি আসার সাথে সাথে কাজ শুরু করে দিতাম। আমি সড়ক বিভাগকে সময় দিয়েছি, আগামী সমন্বয় মিটিংয়ের আগে আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য।’
নাজমুল হক স্বপন তাঁর প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, আমরা অনেক নির্বাচন দেখেছি, আবার অনেকে এবারের নির্বাচনের প্রথম ভোটার। অনেকদিন পর আমরা একটা ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। আপনি যদি সঠিক থাকেন, তবে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন পাবো। যত গন্ডগোল, যত ঝামেলা, সব এই নির্বাচনকে ঘিরেই।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকগণ চুয়াডাঙ্গার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোড একমুখী করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সেই সাথে চুয়াডাঙ্গায় একটি ওয়েলকাম গেট স্থাপনের দাবিও রাখা হয়। অবৈধ ইজিবাইকের দৌরাত্ম এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও কোচিং বাণিজ্যের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ দাবি জানান সাংবাদিকবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী দূষনের প্রথম সমস্যা পৌরসভা। পৌরসভার ড্রেনগুলো যুক্ত হয়েছে মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে। ডাম্পিং স্টেশনের অসম্পূর্ণতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জেলার সব থেকে বড় সমস্যা অনলাইন জুয়া এবং মাদক। ছোট ছোট বিকাশের দোকানে চলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। বিষয়টি প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ। হাসপাতাল রোডের যানজট নিরসনের ব্যাপারেও তিনি নিজের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘একজন কালেক্টর বাহাদুর এই হাসপাতালের যানজট নিরসর করতে পারেন। অত্যান্ত সক্ষমতায় নামতে হবে এবং রাস্তার দুপাশে ভেঙে ক্লিয়ার করতে হবে।’ মতবিনিময় শেষে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিসট্রেট এ.এস.এম. আব্দুর রউফ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর, দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল আমীন, জিটিভির জেলা প্রতিনিধি রিফাত রহমান, মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি মিঠুন মাহমুদ, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক