চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ছোট জেলা হিসেবে সমন্বয় কমিটির সভায় খুব কম মানুষ হবে, তবে এত উপস্থিতি দেখে আমি মুগ্ধ। আশা করছি সকলে মিলে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে নতুন রূপ দিতে সক্ষম হবো। আজ এই সভায় নানা ব্যস্ততার কারণে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিবর্তে তাদের প্রতিনিধি এসেছেন। আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি- আপনারা আপনাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যাসেজটি পৌঁছে দেবেন- জেলা সমন্বয় কমিটির সভাটি জেলার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক তার চুয়াডাঙ্গায় আগমনের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, ‘আমার চুয়াডাঙ্গায় আসার প্রথম দিনেই একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। জীবননগরে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি টহল দেয় ঠিকই, তবে ডাকাতদের ডাকাতি করতে সময় লাগে অল্প কিছুক্ষণ। অন্ধকার মানেই ক্রাইম জোন। তাই সড়কগুলোতে আলোর ব্যবস্থা থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’
পৌরসভার প্রতি নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৫ দিনের ভেতর সড়ক পরিচ্ছন্নতা এবং সড়কবাতির ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের পূর্বে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে কিছু ডিপার্টমেন্ট কাজ শুরু করে দিয়েছে, বাকি ডিপার্টমেন্টগুলো তফসিল ঘোষণার পর কাজ শুরু করবে। এবারের নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে করা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবার নির্বাচনে কাজ করতে হবে আমাদের।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব তুলে মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যেন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি হয়। কারণ আমি অসুস্থ হলেও এই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে যাব। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তার জন্য প্রয়োজনে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।’ সরকারি কোয়ার্টার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডিসি বলেন, চুয়াডাঙ্গার সরকারি কোয়ার্টারগুলো খুব দ্রুতই মেরামত করতে হবে, যাতে সেখানে বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়। তামাক চাষ মোকাবিলায় তিনি কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে হবে। আর যারা তামাক চাষ করবে, তাদের সারসহ সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া বন্ধ করতে হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার যেখানেই পরিবেশে বিপর্যয় নেমে আসবে, সেখানেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদার্পণ হতে হবে। এসময় তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোডের জরুরি সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন। তার নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কবরী রোডের বসে যাওয়া রাস্তার কিছু অংশ একদিনের মধ্যে মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুজাত কাজী জানান, ‘চুয়াডাঙ্গার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ সম্পন্ন করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ওভারপাসের নিচের সার্ভিস লেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ওভারপাস নির্মাণে রেলওয়ের কিছু জায়গা প্রয়োজন।’ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলাব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন রকমের জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়ে থাকে। এই তামাক চাষের ফলে মাটি তার উর্বরতা হারায়। তাই সকল কৃষকদের তামাক চাষে নীরুৎসাহিত করা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম সাইফুল্লাহ, দামুড়হুদার ইউএনও তিথি মিত্র, জীবননগরের ইউএনও মো. আল-আমীন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. আশিস মোমতাজ, সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাৎ বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা সঞ্চয় অফিসার নজরুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজীব হাসান কচি ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ।
নিজস্ব প্রতিবেদক