আলমডাঙ্গায় বিএনপি নেতা ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার দম্পতির বাড়িতে জামায়াতে ইসলামী আশ্রিত চিহ্নিত আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই হামলায় কুমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম (৫৫) এবং তাঁর সহধর্মিনী কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রোকসানা খাতুন (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা আলমডাঙ্গার হারদী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার জন্য স্থানীয় যুবলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারীকে দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফা হামলাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্যামপুর গ্রামের ওই বিএনপি নেতার বাড়িতে। যুবলীগের সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। প্রথম হামলার পর আহত দম্পতিকে হাসপাতালে ভর্তি করে ফেরার পথে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় পুনরায় হামলার স্বীকার হন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এবারও যুবলীগ সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতকারী রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। এই হামলায় আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুদ্দিন আলম কনকসহ (৪০) আরও বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। কনক বর্তমানে শহরের ফাতেমা টাওয়ারে চিকিৎসাধীন। এছাড়া, সন্ধ্যার এই ঘটনায় চক বন্ডবিল গ্রামের আরও দুই বিএনপি কর্মী তাইজেল হোসেন (৫০) ও শাহাজান (৩৩) রক্তাক্ত জখম হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বাড়িতে গিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করেছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে নেতৃত্ব দেয় যুবলীগের থানা পর্যায়ের নেতা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওল্টু। যে বর্তমানে জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিয়েছে। তারা রাম দা, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। শ্যামপুরে যে হামলা হয়েছে, সেখানে কুমারী থেকে সন্ত্রাসীরা গেছে। কারো মাথা ফেটেছে, কারো হাত ভেঙ্গেছে। ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙ্গা হয়েছে এবং এখনো একটি মোটরসাইকেল আটকে রেখেছে।’
কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিবুল ইসলাম ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার পরিষদের একজন মহিলা মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে যুবলীগের সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে হামলা করে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে শুনি আমাদের আসার খবরে তারা পালিয়েছে। কিন্তু আমার পরিষদের মহিলা কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে ব্যাপক মারধর করেছে এবং বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। তাঁদেরকে উদ্ধার করে আমরা হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ফিরে আসার সময় পুনরায় শ্যামপুরে ওই যুবলীগের সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে আরও ৩০-৪০ জনকে দেশীয় রডসহ অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে এবার আমাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন জানান, জামায়াতের ব্যানারে যুবলীগের কর্মীরা তাদের নেতা-কর্মীদের ওপরে হামলা করে। এতে বিএনপির ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, আমাদের জামায়াতে নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তাঁর স্বামী প্রতিহত করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কতর্কি হলেও পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা করে। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কুমারী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে রাজনৈতিক দুটি দল (জামায়াত ইসলাম ও বিএনপির) সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সাথে সাথে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুনেছি বিএনপির চারজন সমর্থক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে কোনো দলের পক্ষ থেকেই এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি।’
এদিকে, আহত নেতাদের দেখতে রাতেই আলমডাঙ্গার হারদী হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল হোসেন, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দীন মোল্লা, সদস্যসচিব সাইফুল আলম কনক, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক