বুধবার, ১২ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় চার গুণী ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে শিল্পকলা একাডেমি সম্মননা প্রদান

আমি এই সাংস্কৃতিক চর্চা খুব ভালোবাসি- ডিসি জহিরুল ইসলাম
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-১১-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় চার গুণী ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে শিল্পকলা একাডেমি সম্মননা প্রদান

চুয়াডাঙ্গায় চারজন গুণী ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা প্রদান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন। চারজন গুণী ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক, সম্মাননা উপহার ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।


সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষক হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুর রশীদ, যন্ত্রসঙ্গীত ক্ষেত্রে সম্মাননা গ্রহণ করেন রুহুল কুদ্দুস টুল্লু, কণ্ঠসঙ্গীত ক্ষেত্রে সম্মাননা গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও জেলা জাসাসের সভাপতি সহিদুল হক বিশ্বাস, নাট্যকলা ক্ষেত্রে সম্মাননা গ্রহণ করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নাট্য সম্পাদক বিল্লাল হোসেন এবং সৃজনশীল সংস্কৃতি সংগঠন হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ।


ভারপ্রাপ্ত জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন ‘আমার কবি, সাহিত্যিক, বাউলদের প্রতি একটা বিশেষ টান কাজ করে। বলা যায় আমার বিপরীত চরিত্র ওনারা। আমি গান-কবিতা কিছুই পারি না, তাই ওনারা আমার বিপরীত চরিত্রের। তবে আমি এই সাংস্কৃতিক চর্চা খুব ভালোবাসি। আমি এবার লালন মেলায় গিয়েছিলাম। তবে খুব দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ভেতরে ছিলাম ওখানে যাওয়ার ব্যাপারে। তবে কৌতুহল আটকাতে না পেরে গিয়েছিলাম দেখতে যে কেন ওখানে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যায়, এবং এক বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলাম এই দিনের। ওখানে যাওয়ার পর বুঝলাম এটা একটা আলাদা জগৎ নিজ নিজ দৃষ্টিতে।’


তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদে আমার একটা অন্যরকম আকর্ষণ আছে। তারা আমাকে যখনই দাওয়াত দেয়, আমি না করি না। আমার কাছে মনে হয় তারা নিজের জীবনটাকে একটু ভিন্নভাবে দেখে। খুব সাধারণভাবে এবং এই সাহিত্য শিল্পীদের চাহিদা এত নগন্য যে চাহিদা নাই বললেই চলে। আমি খুব কাছ থেকে বিষয়টা দেখেছি।’


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এই অনুষ্ঠানটা খুব বড় আকারে করতে। নভেম্বরের শেষের দিকে করার পরিকল্পনা ছিল, তবে কিছু কারণে সেটা হয়ে উঠলো না। যারা প্রকৃত গুণীজন, তাদের যথেষ্ট নিরপেক্ষতার সাথে মূল্যয়ন করা হয়েছে, জানি না আমরা কতটুকু সফল। তবে আপনাদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা থাকবে। আপনারা নিজ নিজ স্থান থেকে আরও এগিয়ে যাবেন আশা রাখছি।’


সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীজনদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুর রশীদ, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও জেলা জাসাসের সভাপতি সহিদুল হক বিশ্বাস ও বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ। অনুষ্ঠানে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরন-উর-রশিদ শান্তর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ ও সাংবাদিক শাহ আলম সনি।


এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভীসহ শিল্পকলা একাডেমি ও সাহিত্য পরিষদসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

আন্দুলবাড়ীয়ায় বাংলা কিউআর কোডে লেনদেনের প্রচারে রোড-শো