চুয়াডাঙ্গায় নামছে তাপমাত্রা, জেঁকে বসছে শীত। ভোরের কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া জানিয়ে দিচ্ছে- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায় শীতের আগমন দ্বারপ্রান্তে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গত মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সকাল ৯টায় তা সামান্য কমে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ৮৩ শতাংশ। আর গতকাল বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা আরও কিছুটা বেড়েছে। ভোর ৬টার দিকে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯৭ শতাংশ। সকাল ৯টার দিকে একই তাপমাত্রা বজায় থাকলেও আর্দ্রতা কিছুটা কমে ৮৫ শতাংশে নেমে আসে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ভোর ও সকালবেলায় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে- এ বছর শীত আগেভাগেই নামছে। নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকেই শীতের প্রভাব আরও বাড়বে।
এদিকে, শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় মানুষজনকে গরম কাপড় ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। ভোরে মাঠে-মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা চাদর ও মোটা জামাকাপড় জড়িয়ে নিচ্ছেন। দিন যত গড়াচ্ছে, সন্ধ্যার পর বাতাসে হালকা ঠান্ডা ভাব বাড়ছে।
আসন্ন শীতকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছে চুয়াডাঙ্গার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা গাছিরা। সপ্তাখানিকের ভেতরেই পুরোদমে শুরু হবে রস সংগ্রহের কাজ এবং এই রস থেকেই তৈরি হবে চুয়াডাঙ্গার বিখ্যাত খেজুরের গুড় ও নলেন পাটালি। এছাড়াও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের বিচরণ বেড়েছে। আর চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড়, বড় বাজার, হাসপাতাল রোড, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন স্থানে ভাপা পিঠার ভ্রাম্যমাণ দোকান গড়ে উঠেছে।
এদিকে শীত মৌসুমের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীদের ভিড়। এদের মধ্যে বয়স্ক সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. রকিব সাদী। স্থানীয়রা বলছেন, নভেম্বরের শুরু থেকেই ভোরবেলা দেখা যাচ্ছে কুয়াশা। স্কুলপড়য়া শিশুদের সকালবেলা রাস্তায় বের হতে কাঁপতে দেখা যায়। হালকা শীতের এ আবহাওয়া উপভোগ করছেন অনেকে, আবার দিনমজুর ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষেরা শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা আগামী এক সপ্তাহে আরও কিছুটা কমতে পারে। আর্দ্রতা উচ্চমাত্রায় থাকায় ভোরে হালকা কুয়াশা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক