বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জীবননগর থানার পুরন্দরপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আমলী আদালত-৩ এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্তরা হলেন- সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার চৌবাড়িয়া গ্রামের সোবহান কারিকরের ছেলে মামুন হোসেন (৪৮), সাতক্ষীরা সদরের রাজনগর গ্রামের সিকান্দার মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৬) ও রায়পুর থানার মধ্য কেরোয়া গ্রামের (লক্ষ্মীপুর) আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সাহারা বেগম (৪০)।
মামলার বিবরণীতে অভিযোগকারী মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মামুন হোসেন বিদেশে থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে রোমানিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। বলা হয়, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসিক দেড় লাখ টাকা বেতনের চাকরি নিশ্চিত করা হবে। এই ফাঁদে পা দিয়ে মাহবুবুর রহমান গত ৬ ডিসেম্বর-২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরার নলতায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রথমে ৭ লাখ টাকা এবং পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। এরপর অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আরও ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সবশেষ, গত ২৪ ডিসেম্বর-২০২৪ তারিখে তারা মাহবুবুর রহমানকে একটি জাল রোমানিয়ার ভিসা সরবরাহ করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেল একজন নিরীহ ও সহজ-সরল মানুষ। অভিযুক্তরা পারস্পরিক যোগসাজশে বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একটি জাল ভিসা সরবরাহ করে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। ভিসা জাল প্রমাণিত হওয়ার পর মাহবুবুর রহমান টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকার করে। অবশেষে তিনি উপায় না দেখে আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে শরণাপন্ন হন। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আবেদন জানিয়েছি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক