দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে বাকিতে লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মহাদেব চন্দ্র সাধু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ অন্তত ৮০টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা আদালতে হাজির করা হয়। চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে ওই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। মহাদেব চন্দ্র সাধুর বাড়ি মাগুরা জেলায়।
পরে মামলার বাদী লিটন কুমার আইচ আসামি মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে প্রতারণার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে বাদীর সাথে আসামির পরিচয় হয়। আসামি বাদীর সাথে পরিচয়ের পর নগদ টাকায় মালামাল কিনে বাদীর মনে বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং কৌশলে আসামি বাদীর কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ টাকার ৭৬ গাড়ি ভুট্টা কিনে ৪ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি দুই কোটি ৪১ লাখ ২ হাজার ৫৭৯ টাকা আসামি বকেয়া রাখেন। একইভাবে ঢাকার ব্যবসায়ী মামলার সাক্ষী ইসমাইল হোসেন রতনের কাছেও ১৭ কোটি ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা বকেয়া রাখেন। এভাবে দুজনের কাছে আসামি মহাদেব চন্দ্র সাধু ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৯৭৯ টাকা বকেয়া রাখেন।
লিটন কুমার আইচ বলেন, ‘মহাদেব সাধুর সাথে আমি ৫ মাস ব্যবসা করেছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। তাকে জেল খাটানো আমার উদ্দেশ্যে না। আমি যাদের থেকে বাকি নিয়ে তার কাছে মাল বিক্রি করেছি, তাদের টাকা তো আমাকেই পরিশোধ করতে হবে। তারা তো আমায় ছেড়ে দিবে না। আমার কাছে যারা টাকা পায়, তারা আমার বাড়ি এসে ভাঙচুর করেছে, আমার স্ত্রীর গয়না নিয়ে গেছে। আমি দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলাম। পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার ফিরে এসেছি। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’
তিনি অভিযোগ করেন, মহাদেব চন্দ্র সাধু এবং তার সাথের আরও কয়েকজন মিলে সারা দেশে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীর নিকট থেকে কৌশলে কোটি কোটি টাকার মালামাল বাকিতে কিনে প্রতারণা করে আসছিলেন।
শুনানির জন্য ঢাকা থেকে আসা বাদী পক্ষের আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেন, মহাদেব চন্দ্র সাধু সাতক্ষীরা অঞ্চলে সাধু সেজে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রায় দীর্ঘ ১৭ বছর একটা অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। নরেন্দ্র মোদীর সাথে তার ছবি ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের সাথে নানা রকম প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তার প্রতারণার ধরন এমন ছিল যে, যারা সরকারকে সর্বোচ্চ কর প্রদান করে থাকেন, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের থেকে পণ্য ক্রয় করতেন। তিনি প্রথমে বিশ্বাস স্থাপন করতে আগে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। কয়েকবার এমন লেনদেনের পর বিশ্বাস অর্জন শেষে কয়েক কোটি টাকার পণ্য অর্ডার করতেন এবং বলতেন টাকা কয়েকদিন পরই দিয়ে দিবো। যারা পণ্য পাঠাতেন, তারা ভাবতেন তিনি পূর্বে পণ্য পাঠানোর আগেই টাকা দিয়ে দিতেন এবং তার প্রতি একটা বিশ্বাসও ততদিনে সৃষ্টি হয়ে যেতো। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ব্যবসায়ীরা তাকে বাকিতে পণ্য দিতেন এবং এই মালামাল গ্রহণ করার পর মহাদেব চন্দ্র সাধু উধাও। ফোন অফ করে ফেলতেন। তার বিরুদ্ধে ৮০টি মামলা পেয়েছি আমরা। বিজ্ঞ আদালত প্রাথমিক অবস্থায় সমস্ত ডকুমেন্টস দেখে তার জামিন নামঞ্জুর করেন। আমরা বিশ্বাস করি আদালত ন্যায়বিচার করবেন। মামলার বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী ছিলেন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তুহিন আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক