চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনসহ পাঁচ বিভাগের সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাৎ পর্বে তারেক রহমান দিয়েছেন নানা নির্দেশনা। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বৈঠক থেকে আসনকেন্দ্রিক দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে প্রত্যেককে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে বঞ্চিতদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার জন্য বলা হয়েছে। বিভেদ ভুলে ধানের শীষ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী ফসল ঘরে তুলতে সব প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মিলিমা বিশ্বাস মিলি। চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
জানা যায়, গতকাল সোমবার সাংগঠনিক বিভাগ ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ চার বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন। তবে এদিন বৈঠকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কথা বলার সুযোগ ছিল না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ভোটের মাঠে বিএনপি একক প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন, তাদের দল থেকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেন।
বৈঠকে তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এবারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট অতীতের চেয়ে ভিন্ন। সবাইকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। প্রত্যেক ভোটারের কাছে ভোট চাইতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। দলের মনোনীত প্রার্থীকেও সবার (মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তি ও দলীয় নেতা-কর্মী) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আপনার পাশে যে বসে (মনোনয়ন প্রত্যাশী) আছে, তার কাছে আগে যাবেন। কেউ মনোনয়ন পেলে এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে অন্যরা (যারা মনোনয়ন পাবেন না) মনে কষ্ট পান। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যারা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৈঠকে আবেগঘন হয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মা দেশ ও বিএনপিকে সন্তানের থেকে বেশি ভালোবাসেন। যার কারণে তিনি কঠিন সময়েও দেশ ও বিএনপি ছেড়ে তার সন্তান তথা আমাদের কাছেও আসেননি। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পাশেই থাকতে হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক