চুয়াডাঙ্গায় সরকারি নির্ধারিত কমিশন ও পাওনা অর্থ পরিশোধসহ সার বিক্রেতাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন (কেএসবিএবি)। গতকাল বুধবার সকালে সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সার বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিভিন্ন জটিলতা ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে সার বিক্রয়ের বিপরীতে সরকার নির্ধারিত ৮৮০ টাকার কমিশন দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকায় ব্যবসায়ীরা ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও দোকানভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সংগঠনটি দাবি করে, সার সরবরাহের পর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বিপণন কমিশনসহ প্রাপ্য বিল পরিশোধে মাসের পর মাস বিলম্ব করা হচ্ছে। এতে সার বিক্রেতারা ব্যাংক ঋণ ও ব্যাবসায়িক দেনার জালে জড়িয়ে পড়ছেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন ও পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপও দিন দিন বাড়ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা কৃষকদের কাছে নিরলসভাবে সার সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত কমিশন পুনর্বিবেচনা না করায় এ খাতের টিকে থাকা এখন প্রশ্নের মুখে। বিক্রেতারা দাবি করেছেন- প্রতি বস্তা সারে কমিশন ৮৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা, প্রাপ্য কমিশনের টাকা দ্রুত পরিশোধ, সার পরিবহন ব্যয়ের যৌক্তিক সমন্বয়, এবং জেলাভিত্তিক সার বিতরণে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
কেএসবিএবি নেতারা অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি নির্দেশনা ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সার বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। সরকারের সার নীতিমালায় বেশ কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা সার সরবরাহ ও বিক্রয় প্রক্রিয়াকে সহজ ও ডিজিটাল করার আহ্বান জানান, যাতে কৃষকরা সময়মতো সার পেতে পারেন এবং বিক্রেতারাও তাদের প্রাপ্য কমিশন সঠিকভাবে পান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. একরামুল হক সোহেল বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সার বিক্রেতারা ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হবেন, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান- সার বিক্রেতাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যেন ‘অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার’ এই খাতটি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
প্রধান সম্পাদক