চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভায় জেলার চার উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, চুয়াডাঙ্গা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, এতদিন চুয়াডাঙ্গায় মেডিকেল বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপিত হয়নি। পৌরসভা সংগ্রহ করলেও তা পরিবেশসম্মত ছিল না। এখন প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় একটি আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা প্রিজমের সঙ্গে চুক্তি করে এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন। সংগৃহীত বর্জ্যগুলো কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রিজম শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে চুয়াডাঙ্গায় একটি সফল ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।’ সভায় প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাসিক সেবা মূল্য নির্ধারণ করে।
নির্ধারিত হারগুলো হলো- ১-১০ বেড ২,২৪০ টাকা, ১১-২০ বেড ৩৩৬০ টাকা, ২১-৩০ বেড ৪৪৮০ টাকা, ৩১-৪০ বেড ৫৬০০ টাকা, ৪১ বেডের বেশি ৬৭২০ টাকা। ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল চেম্বারের জন্য- এ ক্যাটাগরি ৮৯৬০ টাকা, বি-১ ক্যাটাগরি ২২৪০ টাকা, বি-২ ক্যাটাগরি ১৬৮০ টাকা, বি-৩ ক্যাটাগরি ১১২০ টাকা, ডেন্টাল চেম্বার ১১২০ টাকা। প্রিজমের কর্মকর্তারা জানান, এসব বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে একটি পরিবেশবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি রাজীব হাসান কচি, দামুড়হুদা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক এবং প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং এটি পরিবেশ সুরক্ষায় একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক