ধানের শীষের প্রচারণায় পথসভা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। প্রতিদিনই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন তিনি। তুলে ধরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা কুটি মসজিদে আসর নামাজ আদায় শেষে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেন জেলা বিএনপির এই নেতা। রাত ১০টা পর্যন্ত তার নেতৃত্বে চলা প্রচারণা দলটি তালতলা কুটিপাড়া, স্কুল মোড়, তেঁতুলতলা, হাজরাহাটি গোরস্থানপাড়া, সালাম মোড়, হাজী মোড়, ব্রিজ মোড়, স্কুল মোড় ও জোয়ার্দারপাড়া এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ জনগণের আশা ও আস্থার প্রতীক। দেশনেতা তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্তির সনদ।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ৩১ দফার প্রতিটি ধাপে নিজেদের জীবনের পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবেন। এই রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দেশে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।’
পতিত সরকারের শাসনব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পতিত সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই ফ্যাসিবাদের পতন এক দিনে হয়নি। বাংলার মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরে তার পতন ঘটিয়েছে। দেশের মানুষ আর ভয় পায় না, তারা এখন ধানের শীষে ভোট দেবে, তারা মুক্তি চায়।’
বিএনপি প্রতিটি নেতা-কর্মীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি পরিবর্তনের প্রতীক, মানুষের আশার প্রতীক। তাই ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের মন জয় করতে হবে। দলে বিভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র মেরামত ও গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন।’
শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘বিএনপিতে কোনো বিভাজন থাকতে পারে না। যারা বিভক্তির নামে গুজব ছড়াচ্ছে, তারা ষড়যন্ত্রেরই অংশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ। আমরা দলের জন্য, দেশের মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে এই দেশের আপামর জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার ভার দেশনায়ক তারেক রহমানের কাঁধে দিয়েই নিশ্চিন্তের নিঃশ্বাস নেবে।’
ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী এই গণসংযোগ ও প্রচারণায় শরীফুজ্জামানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ সরোয়ার রোমান, যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, মোখলেস হোসেন মিল্টন, শ্রমিক দলের নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাবলু।
আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, ছাত্রদলের সহসভাপতি খন্দকার আরিফ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ জোয়ার্দার স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি রাঙ্গা মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আজম আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বাদশা, মহল্লা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক